ফকল্যান্ড যুদ্ধ থেকে ‘হ্যান্ড অব গড’: আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বৈরিতার ইতিহাস
১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের 'হ্যান্ড অব গড' মুহূর্ত ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় পর বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াই ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ফকল্যান্ড যুদ্ধ, ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের ফুটবল বৈরিতা।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু ১৯৬২ সালে। এরপর কয়েক দশকে দুই দলের লড়াই শুধু ফুটবলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইতিহাস, রাজনীতি এবং জাতীয় আবেগও। বিশেষ করে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়ে ফুটবল মাঠেও।
১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচ
১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। মাত্র চার বছর আগে ফকল্যান্ড যুদ্ধ শেষ হওয়ায় ম্যাচটি ছিল রাজনৈতিক আবেগেও ভরপুর।
দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে ফুটবল ইতিহাসের দুটি সবচেয়ে আলোচিত গোল করেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।
প্রথম গোলটি ছিল বিতর্কিত। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক পিটার শিলটনের আগে লাফিয়ে উঠে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়ায় গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা বলেন, “এটি কিছুটা ম্যারাডোনার মাথা, আর কিছুটা ঈশ্বরের হাত।” এরপর থেকেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়।
এর কয়েক মিনিট পরই প্রায় মাঝমাঠ থেকে একের পর এক ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অসাধারণ একক নৈপুণ্যে গোল করেন ম্যারাডোনা। সেই গোলটি পরবর্তীতে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা এবং পরে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নেয়।
২০০২-এর পর আবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি
সবশেষ ২০০২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহ্যামের গোলে জয় পায় ইংল্যান্ড।
এবার প্রায় ২৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপে দেখা হচ্ছে দুই দলের। আর নকআউট পর্বে তাদের মুখোমুখি হওয়া হচ্ছে প্রায় চার দশক পর।
ম্যারাডোনাকে কখনো ক্ষমা করেননি শিলটন
২০০৫ সালে ডিয়েগো ম্যারাডোনা ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পিটার শিলটন তাকে কখনো ক্ষমা করেননি। ফলে দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে সেই ম্যাচ এখনও অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবেই রয়ে গেছে।
