খাগড়াছড়ি-পানছড়ি ও বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
খাগড়াছড়ি-পানছড়ি ও বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প অনুমোদন

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা সড়ক

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে খাগড়াছড়ির গুরুত্বপূর্ণ দুটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন হলে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি এবং দীঘিনালা হয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও মারিশ্যা এলাকার সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় রয়েছে খাগড়াছড়ি-পানছড়ি জেলা মহাসড়ক এবং বাঘাইহাট-মারিশ্যা জেলা মহাসড়ক। বর্তমানে সড়ক দুটির বেশিরভাগ অংশ তুলনামূলক সরু হওয়ায় যানবাহন চলাচলে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে দুটি যানবাহন পাশাপাশি অতিক্রম করার সময় চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। সড়ক প্রশস্ত হলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার একনেকে প্রকল্প দুটি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খাগড়াছড়ি-পানছড়ি জেলা মহাসড়কের প্রায় ২৫ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন করা হবে। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ ১২ ফুট। প্রকল্পের আওতায় এটি বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হবে।

শুধু সড়ক প্রশস্ত করাই নয়, প্রকল্পের আওতায় সড়ক মজবুতীকরণ, প্রয়োজনীয় রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং ড্রেইনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ করা হবে। খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কের জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১১২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, বাঘাইহাট-মারিশ্যা জেলা মহাসড়কও ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্ত করা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সড়ক মজবুতীকরণ, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেইনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।

বাঘাইছড়ি প্রশাসনিকভাবে রাঙামাটি জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের সুবিধার কারণে বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কটি খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন। ফলে এই সড়কের উন্নয়ন খাগড়াছড়ির সঙ্গে বাঘাইছড়ি ও মারিশ্যা এলাকার যোগাযোগেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক দুটির উন্নয়ন শুধু সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করবে না, এর প্রভাব পড়বে স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও। বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন, পর্যটকদের যাতায়াত এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আসতে পারে। একই সঙ্গে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের কারণে সৃষ্ট যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

পানছড়ির বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ১২ ফুটের সরু সড়কে যানবাহন চলাচল করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে কোথাও কোথাও সড়কের ভাঙাচোরা অবস্থাও রয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে সময় বেশি লাগে। সড়কটি ১৮ ফুটে প্রশস্ত হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তিনি মনে করেন।

পানছড়ির আরেক বাসিন্দা জীবন চাকমাও প্রকল্প অনুমোদনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তার মতে, সড়ক প্রশস্ত ও মজবুত হলে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরাও উপকৃত হবেন।

বাঘাইছড়ির বাসিন্দা মো. নিজাম উদ্দিন বাবু বলেন, বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কটি সরু হওয়ার পাশাপাশি অনেক বাঁক রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াতও বাড়তে পারে।

দুটি প্রকল্পই সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পগুলোর কাজ ২০৩০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দাবি ও প্রত্যাশার পর গুরুত্বপূর্ণ এ দুই সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পাওয়ায় খাগড়াছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ি এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দ্রুত প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page