আশির দশকের রেট্রো লুক আবহে ছবি তৈরি করবে যেভাবে
এআইয়ে ফিরছে ৮০-এর দশকের ফ্যাশন
ফ্যাশনে পুরোনো দিনের ছোঁয়া কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে বদলালেও আগের দশকের পোশাক, চুলের স্টাইল ও মেকআপ নতুন প্রজন্মের কাছে আবার জনপ্রিয় হয়ে ফিরে আসে। এবার সেই নস্টালজিক আবহকে নতুনভাবে সামনে এনেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে ১৯৮০-এর দশকের আদলে ছবি তৈরির প্রবণতা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এআই প্রযুক্তির সাহায্যে বর্তমান সময়ের সাধারণ ছবিকে রূপ দেওয়া হচ্ছে আশির দশকের স্টুডিও পোর্ট্রেটের মতো। ছবিতে যোগ করা হচ্ছে সেই সময়ের জনপ্রিয় বড় ও ভলিউমযুক্ত চুল, উজ্জ্বল মেকআপ, স্টেটমেন্ট গয়না এবং রঙিন পোশাকের ধরন। পাশাপাশি আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড ও ছবির টেক্সচারে আনা হচ্ছে পুরোনো দিনের ফিল্ম ক্যামেরার আবহ।
আশির দশকের ফ্যাশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল আত্মবিশ্বাসী ও চোখে পড়ার মতো সাজ। বড় চুল, গাঢ় আইলাইনার, উজ্জ্বল লিপস্টিক, কনট্রাস্ট রঙের পোশাক এবং আকর্ষণীয় গয়না ছিল সে সময়ের জনপ্রিয় স্টাইল। এআইয়ের মাধ্যমে এখন আধুনিক ছবিতেও সেই সময়ের নান্দনিকতা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
কেন জনপ্রিয় হচ্ছে ৮০-এর দশকের লুক
এআই ছবি তৈরির ট্রেন্ডে মানুষ কখনো ভবিষ্যতের কল্পিত রূপ, আবার কখনো অতীতের নির্দিষ্ট সময়কে নিজের ছবিতে ফুটিয়ে তুলছেন। তবে আশির দশকের লুকের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে মূলত সেই সময়ের আলাদা ফ্যাশন, রঙের ব্যবহার এবং নস্টালজিক আবহের কারণে।
শুধু ভিনটেজ ফিল্টার নয়, এআই এখন ছবির পোশাক, চুলের ধরন, আলো, পরিবেশ ও ফটোগ্রাফির স্টাইল পর্যন্ত পরিবর্তন করতে পারছে। ফলে স্মার্টফোনে তোলা একটি আধুনিক ছবিও কয়েক দশক আগের অ্যালবামের ছবির মতো দেখানো সম্ভব হচ্ছে।
কীভাবে তৈরি করবেন আশির দশকের ছবি
এ ধরনের ছবি তৈরির জন্য প্রথমে এআই ছবি তৈরির কোনো টুলে নিজের পরিষ্কার ছবি আপলোড করতে হবে। ছবিতে মুখ স্পষ্ট থাকা এবং আলো ভালো থাকা জরুরি। এরপর নির্দেশনায় কাঙ্ক্ষিত লুক সম্পর্কে বিস্তারিত লিখলে ফলাফল আরও বাস্তবসম্মত হয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে—
‘ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। ব্যক্তির মুখের বৈশিষ্ট্য ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখুন। আশির দশকের উপযোগী চুলের স্টাইল, পোশাক ও মেকআপ যোগ করুন। পুরোনো স্টুডিওর আবহ, ৩৫ মিমি ফিল্মের দানা, উষ্ণ রং, নরম আলো ও বাস্তবসম্মত ত্বকের টেক্সচার যুক্ত করুন।’
স্থানীয় সংস্কৃতির ছোঁয়ায় আরও আকর্ষণীয়
শুধু সাধারণ রেট্রো লুক নয়, চাইলে নির্দিষ্ট সময় ও এলাকার আবহও যুক্ত করা যায়। বাংলাদেশের আশির দশকের ফ্যাশন, পুরোনো ঢাকার পরিবেশ, কাঠের আসবাব, পুরোনো টেলিফোন বা সেই সময়ের স্টুডিও সেটিংয়ের কথা নির্দেশনায় উল্লেখ করলে ছবিতে স্থানীয় সংস্কৃতির ছাপ ফুটে উঠবে।
চুল ও পোশাকের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বর্ণনা দিলে ছবি আরও বাস্তব হয়। যেমন ভলিউমযুক্ত ওয়েভি চুল, বড় কলারের পোশাক, পাফড স্লিভ, উজ্জ্বল রঙের পোশাক বা পুরোনো দিনের মেকআপ স্টাইল ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রযুক্তি ও নস্টালজিয়ার নতুন মেলবন্ধন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রবণতা জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ হলো—এআইয়ের মাধ্যমে মানুষ এখন নিজের ছবির মধ্যেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের একটি কল্পিত সংস্করণ তৈরি করতে পারছেন। পুরোনো দিনের ফ্যাশন ও আধুনিক প্রযুক্তির এই মিশ্রণ নতুন এক ডিজিটাল নস্টালজিয়ার সৃষ্টি করেছে।
আশির দশকের সেই আবহ এখন আর শুধু পুরোনো অ্যালবামে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এআইয়ের মাধ্যমে তা ফিরে আসছে নতুন প্রজন্মের ডিজিটাল পর্দায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
