হ্রদের পানির চাপ সামলাতে কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট উন্মুক্ত
কাপ্তাই হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে বাঁধের ১৬টি জলকপাট ৩ ফুট পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়েছে
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির চাপ দ্রুত বাড়তে থাকায় বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির কারণে হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ৪০ কোটি ২২ লাখ ঘনফুট পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি জলকপাট সর্বোচ্চ ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা রয়েছে। পাশাপাশি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সচল পাঁচটি ইউনিটে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে।
জলকপাট দিয়ে পানি নিষ্কাশন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে পানি ছাড়ার ফলে বর্তমানে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে স্পিলওয়ের জলকপাট দিয়ে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নদীতে অবমুক্ত করা হচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। অতিরিক্ত পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে প্রথমবার জলকপাট খোলার সময় হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল। এরপরও উজান থেকে পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকে।
টানা পানি নিষ্কাশনের পর বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ২ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার চেয়ে এখনো প্রায় ২ দশমিক ৮ ফুট নিচে রয়েছে হ্রদের পানি। তবে উজান থেকে নতুন করে পানি আসার পরিমাণ এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের জলকপাট একবারে পুরোপুরি না খুলে ধাপে ধাপে খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। শুরুতে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪১ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছিল।
পরে হ্রদের পানির চাপ আরও বাড়লে জলকপাট ১ ফুট পর্যন্ত খোলা হয়। এতে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৫০ হাজার কিউসেকে পৌঁছায়। এরপর জলকপাট ২ ফুট পর্যন্ত খুলে দিলে পানি নিষ্কাশনের হার বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭১ হাজার কিউসেক।
সর্বশেষ হ্রদের পানির উচ্চতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৬টি জলকপাট ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হয়েছে। বর্তমানে স্পিলওয়ে ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র মিলিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে চলে যাচ্ছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ায় রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ ঐতিহ্যবাহী ঝুলন্ত সেতু। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেতুটিতে চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুধু রাঙামাটি শহরের নিম্নাঞ্চল নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হ্রদ ও নদীর পানি বাড়ায় জনদুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ির কাচালং নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করার খবর পাওয়া গেছে। ফলে কোথাও কোথাও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হলেও হ্রদের পানির উচ্চতা, উজানের প্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী জলকপাট খোলার পরিমাণ আরও পরিবর্তন করা হতে পারে।
বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়া নতুন ঘটনা নয়। তবে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এবার তুলনামূলক দ্রুত পানি বাড়ায় বাঁধের নিরাপত্তা এবং হ্রদসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের পরিস্থিতিই কাপ্তাই হ্রদের পানি কতটা বাড়বে বা কমবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
