‘আইফোন কিনতে’ ছেলেকে বিক্রি কিনেছেন বাবা!
'আইফোন কিনতে' ছেলেকে বিক্রি কিনেছেন বাবা!
পটুয়াখালীর দশমিনায় নিজের দেড় বছরের শিশুপুত্রকে প্রায় এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে মারুফ মুন্সি (২২) নামে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রোববার (৩০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্ত মারুফকে ঢাকা থেকে দশমিনা থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে জেলার গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, একটি আইফোন কেনার টাকা জোগাড় করতেই নিজের সন্তানকে অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তর করেছিলেন মারুফ। তবে অভিযুক্ত মারুফ দাবি করেছেন, সন্তানকে বিক্রি নয়, লালন-পালনের শর্তে অন্যের কাছে দিয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মারুফ মুন্সির বাড়ি দশমিনা উপজেলার বড় গোপালদী গ্রামে। তিনি মফিজ মুন্সির ছেলে এবং ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন।
মারুফ ও তার স্ত্রী বৃষ্টি আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করলে শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তার দাদি মাহফুজা বেগম।
শিশুটির দাদি জানান, শনিবার সকালে মারুফ তার সন্তানকে ভালো পোশাক পরিয়ে ঘুরতে নিয়ে যান। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, ঢাকায় কর্মরত মারুফের সহকর্মী ইমরানের শ্বশুর মহিবুল শিশুটিকে নিয়ে গেছেন।
পরিবারের দাবি, শিশুটিকে নেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী লিখিতভাবে ৫২ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছিলেন মারুফ।
শিশুটির দাদি অভিযোগ করেন, সন্তান হস্তান্তরের টাকা ও পুরোনো আইফোন বিক্রির অর্থের সঙ্গে আরও টাকা যোগ করে মারুফ নতুন আইফোন কিনেছেন।
তবে পুলিশ হেফাজতে থাকা মারুফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এলাকায় তার কিছু দেনা ছিল। সেই দেনা পরিশোধের জন্য সহকর্মী ইমরান ও তার শ্বশুরের কাছে সন্তানকে লালন-পালনের শর্তে দিয়েছেন এবং বিনিময়ে ৫২ হাজার টাকা নিয়েছেন।
দশমিনা থানার ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
