অতিরিক্ত লবণ-চিনি-চর্বিযুক্ত খাবারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, এফওপিএল চালুর তাগিদ

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ণ
অতিরিক্ত লবণ-চিনি-চর্বিযুক্ত খাবারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, এফওপিএল চালুর তাগিদ

অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝাতে প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তা দেওয়ার উদ্যোগ।

বাংলাদেশে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ ও সব বয়সী মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা ‘ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং’ (এফওপিএল) চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

২৪ ও ২৫ আগস্ট রাজধানীর বিআইপি কনফারেন্স রুমে ‘বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল): প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সাংবাদিক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ২৬ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এসব রোগের অন্যতম ঝুঁকি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের নিয়মিত গ্রহণ এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

বক্তারা জানান, বর্তমানে অনেক প্যাকেটজাত খাবারের পেছনে ছোট অক্ষরে জটিল পুষ্টি তথ্য দেওয়া থাকে। ফলে সাধারণ ভোক্তার পক্ষে অল্প সময়ে খাবারটির পুষ্টিগুণ ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে প্যাকেটের সামনের অংশে সহজে বোঝা যায় এমন সতর্কবার্তা যুক্ত করা হলে ভোক্তারা খাবার কেনার আগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, এফওপিএল-সংক্রান্ত খসড়া প্রবিধানমালা বর্তমানে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে এটি দ্রুত চূড়ান্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এফওপিএল একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি। এর মাধ্যমে ভোক্তারা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি সহজেই বুঝতে পারবেন।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, অসংক্রামক রোগে মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এফওপিএল-সংক্রান্ত প্রবিধানমালা দ্রুত চূড়ান্ত ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।

গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় এফওপিএলের কার্যকারিতা নিয়ে গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ হলে খসড়া প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার পথ আরও সহজ হবে।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মার কো-কনভেনর মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। এ ছাড়া প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন উপস্থাপনা তুলে ধরেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, খাবারের প্যাকেটেই যদি সহজ ও স্পষ্টভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকির তথ্য তুলে ধরা যায়, তাহলে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অসংক্রামক রোগের বোঝা কমাতেও এফওপিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page