বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বাদ পড়ার পর মাঠে ফিরেই ৩১ সেকেন্ডে গোল জোয়াও পেদ্রোর
বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে মাঠে ফিরেই ৩১ সেকেন্ডে গোল পেদ্রোর
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার পর প্রথম ম্যাচেই চেলসি ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো এমন এক কীর্তি গড়লেন যা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে লেখা থাকবে অনেক দিন। ম্যাচ শুরুর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই গোল করে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হলেও ক্লাব ফুটবলে তার ধার এতটুকুও কমেনি। পরিসংখ্যান সংস্থা অপ্টা নিশ্চিত করেছে, এই গোলটি লিগের মৌসুম শুরুর দিনে করা সবচেয়ে দ্রুততম গোল হিসেবে রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
চেলসির নতুন কোচ জাবি আলোনসোর অধীনে দলের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচেই এই কীর্তি এল, যা আলোনসোর জন্যও ছিল তার ম্যানেজারিয়াল অভিষেক। লন্ডনের ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম ক্রেভেন কটেজে ফুলহামের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে চেলসি নেমেছিল লন্ডন প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে। খেলা শুরুর প্রথম মুহূর্তেই বল দখলে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে চেলসি। লেভি কলউইলের একটি লম্বা হেডার থেকে বল পান কোল পালমার, যিনি এরপর জোয়াও পেদ্রোকে খুঁজে বের করে একটি নিখুঁত থ্রু বল বাড়িয়ে দেন। পেদ্রো বলটি নিয়ে বক্সে ঢুকে শান্তভাবে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে পাঠান, এবং এতটাই দ্রুত ঘটে যায় ঘটনাটি যে দর্শকদের অনেকেই টিভি রিমোট হাতে নেওয়ারও সময় পাননি। শেষ পর্যন্ত এই একমাত্র গোলেই চেলসি জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এই গোলটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে জোয়াও পেদ্রোর জন্য একটি হতাশাজনক সময়ের ঠিক পরেই আসায়। কিছুদিন আগে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার সময় সবাইকে অবাক করে দিয়ে পেদ্রোকে বাদ দিয়েছিলেন। আনচেলত্তি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে ইউরোপে যে মৌসুম পেদ্রো কাটিয়েছেন, তার জন্য তিনি সম্ভবত এই তালিকায় থাকার যোগ্য ছিলেন, তবে কোচ শেষমেশ অন্য খেলোয়াড়দের বেছে নিয়েছিলেন। চেলসিতে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো সত্ত্বেও আনচেলত্তি তরুণ ও অভিজ্ঞ কয়েকজন খেলোয়াড়ের ওপর বেশি আস্থা রাখেন, আর নেইমারের প্রত্যাবর্তনও দলে জায়গা কমিয়ে দেয়।
এমন এক প্রেক্ষাপটে জোয়াও পেদ্রোর তাৎক্ষণিক গোল যেন এক প্রতীকী জবাব হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পেদ্রো এই মৌসুমে চেলসির ঐতিহ্যগতভাবে “অভিশপ্ত” বলে পরিচিত নাম্বার নাইন জার্সি পরে খেলতে শুরু করেছেন, যে জার্সিতে অতীতে বড় অঙ্কের ফি দিয়ে আসা ফার্নান্দো তোরেসের মতো তারকারাও ভুগেছিলেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে লিয়াম ডেল্যাপও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। এমন এক জার্সিতে মৌসুমের প্রথম মুহূর্তেই গোল করে পেদ্রো যেন সেই “অভিশাপ”কেও পাত্তা দিলেন না।
প্রসঙ্গত, বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার একই দিনে জোয়াও পেদ্রোকে চেলসির মৌসুমসেরা খেলোয়াড় হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছিল, যেখানে তিনি সমর্থকদের ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ব্রাইটন থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর তার অভিষেক মৌসুম ছিল অসাধারণ — তিনি চেলসির ইতিহাসে হাতে গোনা কয়েকজন খেলোয়াড়ের একজন হিসেবে অভিষেক মৌসুমেই দুর্দান্ত গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা মিলিয়ে অবদান রাখেন, যে তালিকায় এডেন হ্যাজার্ড, ডিয়েগো কস্তা ও কোল পালমারের মতো নাম রয়েছে। বাদ পড়ার পরও তিনি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেছিলেন, দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও তিনি শান্ত ও মনোযোগী থাকার চেষ্টা করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা এই গোলের পর ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, অনেকেই লিখেছেন পেদ্রো হয়তো লিগের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন এবং এই মৌসুমে তার পারফরম্যান্স সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবে। নতুন মৌসুমের একেবারে শুরুতেই এমন এক রেকর্ড গড়ে জোয়াও পেদ্রো যেন প্রমাণ করলেন, জাতীয় দলের হতাশা তার আত্মবিশ্বাসে এতটুকুও চিড় ধরাতে পারেনি — বরং তা যেন তাকে আরও তীক্ষ্ণ ও দৃঢ়সংকল্প করে তুলেছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
