ইন্টারনেট না থাকলেও সচল থাকবে ব্যাংকিং সেবা নতুন নেটওয়ার্কিং অ্যাপ

প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ইন্টারনেট না থাকলেও সচল থাকবে ব্যাংকিং সেবা নতুন নেটওয়ার্কিং অ্যাপ

ইন্টারনেট ছাড়াই ব্যাংকিং সেবার উদ্যোগ।

২২৮

দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও যেন ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে লক্ষ্যে নতুন নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংকটময় পরিস্থিতিতেও আন্তঃব্যাংকিং লেনদেন, শাখাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা সচল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিশেষ নেটওয়ার্কিং অ্যাপ বা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করবে বলে জানানো হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস, বাংলাদেশ (এবিবি)-এর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বৈঠকে দেশের প্রায় এক ডজন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক এমন একটি স্বতন্ত্র নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চায়, যার মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ব্যাংক শাখার মধ্যে যোগাযোগও স্বাভাবিক রাখা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হলে অনেক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ব্যাহত হয়। বিশেষ করে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-নির্ভর কিছু লেনদেন এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দেয়। নতুন নেটওয়ার্ক চালু হলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট ছাড়াও এসব গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্যে যোগাযোগই নয়, প্রয়োজনীয় আন্তঃব্যাংকিং কার্যক্রমও সচল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সংকটকালেও গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতা। গত বছরের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে কয়েক দিন ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ছিল। ১৯ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত কার্যত ব্যাংকিং কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ সময় প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ব্যাংকিং চ্যানেলে আসার পরিমাণও কমে যায় এবং মোবাইল আর্থিক সেবার লেনদেনেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের আর্থিক খাত এখন অনেকটাই ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইন্টারনেট বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে ব্যাংকিং সেবাও সরাসরি প্রভাবিত হয়। এ কারণে বিকল্প নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ ভবিষ্যতে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো পরিস্থিতিতেই পেশাদারিত্ব বজায় রেখে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, আর্থিক খাতে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে সব ব্যাংককে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা চালু হলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেট বিভ্রাট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতেও ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। এতে গ্রাহক ভোগান্তি কমার পাশাপাশি দেশের আর্থিক কার্যক্রমও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page