রোগী নিয়ে বাণিজ্য বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রাইভেট ক্লিনিকে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা

স্বাস্থ্য প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
রোগী নিয়ে বাণিজ্য বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি প্রাইভেট ক্লিনিকে নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা

স্বাস্থ্যখাতে টেস্ট বাণিজ্য, দালাল চক্র ও অপ্রয়োজনীয় সিজারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

দেশে টেস্ট বাণিজ্য, কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানো, অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো কিংবা কমিশনের ভিত্তিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে রাজধানীতে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন  শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করে পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করা, রোগীকে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেস্ট করাতে পাঠানো কিংবা কমিশনের বিনিময়ে চিকিৎসা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এসব কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী সরিয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবাকে কোনোভাবেই বাণিজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ কিট বক্স দেওয়া হবে। এসব কিট ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচ্চতা, ওজন, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসিসহ বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা নারীদের এবং পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মীরা পুরুষদের স্বাস্থ্যসেবা দেবেন।

অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সারা দেশে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় লেবার রুম, লেবার চেয়ার এবং নবজাতকের জন্য আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়া পরিচালিত অনেক ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন