দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৫০ লাখ ছুঁইছুঁই, অবৈধ বাইক বৈধ করার সুযোগ দিল BRTA

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৫০ লাখ ছুঁইছুঁই, অবৈধ বাইক বৈধ করার সুযোগ দিল BRTA

দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৫০ লাখ ছুঁইছুঁই, অবৈধ বাইক বৈধ করার সুযোগ দিল BRTA

২০১

দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ব্যক্তিগত যাতায়াতের সহজ মাধ্যম হিসেবে মোটরসাইকেলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি এর নিবন্ধনের সংখ্যাও নতুন রেকর্ডের দিকে এগোচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখে পৌঁছেছে।

সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার ৯০টি। অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই এই সংখ্যা ৫০ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে মহাসড়ক এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবৈধ ও নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলের চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এসব অভিযানে নিবন্ধনবিহীন, ফিটনেসবিহীন এবং আইন লঙ্ঘনকারী মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো সড়কে বৈধ ও নিয়ম মেনে পরিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো।

সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যেসব মোটরসাইকেল এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে, সেগুলোর মালিকদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। সেতুমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বৈধ মালিকানার প্রমাণ থাকলে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করার মাধ্যমে এসব মোটরসাইকেলকে বৈধতা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো মোটরসাইকেল মালিক যদি যথাযথ কাগজপত্রসহ বিআরটিএতে আবেদন করেন, তাহলে যাচাই-বাছাই শেষে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদান করে মোটরসাইকেলটি বৈধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধনবিহীন অবস্থায় থাকা অনেক মোটরসাইকেল আইনের আওতায় আসতে পারবে।

পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে মোটরসাইকেলের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। যানজটপূর্ণ শহরে দ্রুত চলাচল, তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াত এবং রাইড শেয়ারিং সেবার প্রসার মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা এবং বড় শহরগুলোতে মোটরসাইকেল এখন অনেকের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান বাহনে পরিণত হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপদ চালনা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং যথাযথ নিবন্ধন নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট।

এদিকে সম্প্রতি সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকার বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানো এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মতো পদক্ষেপের পাশাপাশি মোটরসাইকেল নিবন্ধন প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেল বৈধ করার সুযোগ এবং নিয়মিত নজরদারির ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী দেশের মোটরসাইকেলের সংখ্যা ৫০ লাখের ঘরে পৌঁছানো দেশের পরিবহন খাতের দ্রুত পরিবর্তনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

সূত্র:বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে– ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন