বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব এলপিজি দিবস। প্রতিবছর ৭ জুন এ দিবসটি উদযাপন করা হয়। বিশ্ব এলপিজি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দিবসটি পালনের মাধ্যমে এলপিজির উপকারিতা, নিরাপদ ব্যবহার এবং জ্বালানি খাতে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ রান্না, শিল্পকারখানা, কৃষি এবং পরিবহন খাতে এলপিজি ব্যবহার করছেন। তুলনামূলক কম দূষণ সৃষ্টি করায় এটিকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আরও পড়ুন- যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আনছে সরকার, কমতে পারে গ্যাসের দাম
কেন গুরুত্বপূর্ণ এলপিজি
এলপিজি বা লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস এমন একটি জ্বালানি, যা সহজে সংরক্ষণ ও পরিবহন করা যায়। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ না থাকা এলাকায় রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠ, কয়লা বা অন্যান্য কঠিন জ্বালানির তুলনায় এলপিজি কম ধোঁয়া সৃষ্টি করে এবং কার্বন নিঃসরণও তুলনামূলক কম। ফলে এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে এলপিজির বিস্তার
গত এক দশকে বাংলাদেশে এলপিজির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এখন সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজারে ৪০টির বেশি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের মোট চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর হলেও রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সংযোগ নেই, সেখানে এলপিজিই প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে।
নিরাপদ ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি
বিশ্ব এলপিজি দিবস উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা এলপিজির নিরাপদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সিলিন্ডার, রেগুলেটর ও গ্যাসলাইন নিয়মিত পরীক্ষা করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করা এবং গ্যাস লিকেজের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া অনুমোদিত কোম্পানির সিলিন্ডার ব্যবহারেরও আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ভবিষ্যৎ
বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এলপিজিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প জ্বালানি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি এলপিজি ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই জ্বালানি ব্যবহারের বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড এলপিজি অ্যাসোসিয়েশন (WLPGA), জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট তথ্য।
আরও পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় আবারও বাড়ল তেলের দাম









