প্রাথমিকে ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক দ্রুত যোগদান করবেন, জানালেন গণশিক্ষা মন্ত্রী

প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিকে ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক দ্রুত যোগদান করবেন, জানালেন গণশিক্ষা মন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন গণশিক্ষা মন্ত্রী

১৬৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষককে নিয়ে সুখবর দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম খুব শিগগিরই শুরু হবে এবং দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করবেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীতে ‘অধিকতর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল। ইতোমধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন (ভেরিফিকেশন) সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এখন তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করতে আর কোনো বড় বাধা নেই।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণ শেষে নতুন সহকারী শিক্ষকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকসংকটে থাকা অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একজন শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো মনে করে পাঠদান করতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকতার প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত সেরা প্রাথমিক শিক্ষকদের রাজধানীতে এনে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এতে শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা বা উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি মামলা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আটকে ছিল। পূর্ববর্তী সরকারও বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি।

তিনি জানান, বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের পরদিনই সংশ্লিষ্ট মামলার নিষ্পত্তি হয়। বর্তমানে আইনি জটিলতা কেটে গেছে এবং খুব শিগগিরই শূন্য পদগুলোতে পদায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন সহকারী শিক্ষকদের যোগদান এবং প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জনবল সংকট অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বিদ্যালয় পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page