কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, গাড়ি ভাঙচুর

প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, গাড়ি ভাঙচুর

কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়ি এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ এবং তার গাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়ার পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং রাত ৮টার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদে মাজার এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যায়।

দলীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সফরের অংশ হিসেবে রোববার কুষ্টিয়ায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রথমে তিনি কুমারখালীর শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় শিল্পীদের গান শোনার পর তিনি বের হওয়ার সময় কয়েকজনের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। ওই সময় তাকে লক্ষ্য করে একজন ডিম ছুড়ে মারেন বলে তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা দাবি করেছেন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব শোভন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ছবি তোলার সময় নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। এরপর ২০ থেকে ২৫ জন এসে উচ্চস্বরে গালাগালি করে এবং তাকে মারতে উদ্যত হয় বলে তিনি দাবি করেন। তাকে রক্ষা করতে নেতাকর্মীরা ঘিরে ধরেন। পরে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থাকা গাড়িতে ইট ছুড়ে গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পর লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ‘ধর, ধর’ বলে তাড়া করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এতে দেখা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে এনসিপি। এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা করা হবে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, ছাত্রদল ‘মব কালচারের’ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না এবং হামলার সঙ্গে ছাত্রদল কোনোভাবেই জড়িত নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো নেতা-কর্মী জড়িত থাকলে দায়-দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে।

ঘটনার পর কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে তার গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি তখন পুলিশের জানা ছিল না বলে জানান তিনি। পুলিশ তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনও জানান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লালন শাহের মাজারে এসেছিলেন এবং তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটেছে বলে পুলিশ খবর পেয়েছে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনার কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারও হামলা হয়েছে এবং এটিকে তার ওপর পঞ্চম হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়নের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থামানো যাবে না। তবে তার উল্লেখ করা আগের হামলাগুলোর সংখ্যা ও রাজনৈতিক দায়ের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করা যায়নি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর এর আগে ২২ মে ঝিনাইদহে হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ২৮ জুলাই হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও এনসিপির অন্য নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার ক্ষেত্রেও হামলাকারী হিসেবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া যায়।

কুষ্টিয়ার সর্বশেষ ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ নিরাপদে মাজার এলাকা থেকে বের করে নেওয়ার পর তিনি কুমারখালী থানার উদ্দেশ্যে রওনা হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযোগ বা মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ পুলিশের তদন্তে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page