দেশে কোচিং সেন্টারের বিস্তার নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, “ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং বেআইনিভাবে কোনো কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।” একই সঙ্গে নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি শিক্ষকদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন-স্কুল-কলেজ অনলাইন নাকি অফলাইন সিদ্ধান্ত আসছে বৃহস্পতিবার
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত কুমিল্লা অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কোচিং নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা যায়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “শুধু কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করে ভালো ফল অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের মূল ভিত্তি তৈরি করতে হবে শ্রেণিকক্ষে।” তিনি জানান, প্রতিটি শিক্ষককে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের দুর্বল বিষয়গুলো খুঁজে বের করে আলাদাভাবে সহায়তা দিতে হবে। এতে করে কোচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, কোচিং সেন্টারগুলোকে পর্যায়ক্রমে শতভাগ বন্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নকলমুক্ত পরীক্ষার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “দেশের সব পরীক্ষা নকলমুক্ত করতে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।” তিনি দাবি করেন, স্বচ্ছ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ সময় তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী পরীক্ষাগুলোকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী পড়াশোনায় পিছিয়ে আছে, তাদের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে। এতে করে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা কমবে বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে আমরা কাজ করছি এবং একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চাই।” তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে শিক্ষাখাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, কোচিং নির্ভরতা কমাতে হলে স্কুল-কলেজে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা দূর করতে আলাদা সহায়তা প্রদান করলে কোচিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে আসবে।
সব মিলিয়ে, কোচিং সেন্টার নিয়ন্ত্রণ ও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-বৈশাখী ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ১ হাজার এমপিও শিক্ষক
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-প্রথমে কোন কোন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









