বাংলাদেশ থেকে ইতালি ভিসার অনলাইন আবেদন করবেন যেভাবে

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:০০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ থেকে ইতালি ভিসার অনলাইন আবেদন করবেন যেভাবে

ইতালি ভিসার অনলাইন আবেদন করার নিয়ম

ইতালি ইউরোপের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী, দক্ষ কর্মী, ব্যবসায়ী ও পর্যটক পড়াশোনা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেন। ইতালিতে বৈধভাবে প্রবেশের প্রথম ধাপই হলো সঠিক নিয়মে ভিসার আবেদন সম্পন্ন করা।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ইতালির ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও ডিজিটাল ও স্বচ্ছ হয়েছে। আবেদনকারী ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন শুরু করতে পারেন, তবে নির্ধারিত সময়ে ভিসা আবেদন কেন্দ্র (VFS Global)-এ উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। ইতালির দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইতালির সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে শুধুমাত্র ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়।

ইতালিতে যাওয়ার আগে প্রথমেই আবেদনকারীকে নিজের ভ্রমণের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে হবে। কারণ উদ্দেশ্য অনুযায়ী ভিসার ধরন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় কিছুটা পার্থক্য থাকে। স্বল্প সময়ের ভ্রমণ, ব্যবসা, পারিবারিক সাক্ষাৎ বা পর্যটনের জন্য সাধারণত শেনজেন (টাইপ-সি) ভিসা প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে পড়াশোনা, চাকরি, গবেষণা বা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য ন্যাশনাল (টাইপ-ডি) ভিসার আবেদন করতে হয়। ইতালির নির্ধারিত কর্মী কোটার আওতায় যারা চাকরির সুযোগ পান, তাদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ক ভিসার জন্য পৃথক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে একটি বৈধ পাসপোর্ট, সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভ্রমণ বীমা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী আমন্ত্রণপত্র বা হোটেল বুকিং, সম্ভাব্য ভ্রমণ পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রমাণপত্র এবং একটি কভার লেটার প্রয়োজন হতে পারে। তবে আবেদন করা ভিসার ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিও চাওয়া হতে পারে।

সব কাগজপত্র প্রস্তুত হলে আবেদনকারীকে ইতালির ভিসা আবেদন কেন্দ্রের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজের একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সেখানে ভিসার ধরন নির্বাচন করে ধাপে ধাপে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। পাসপোর্টে থাকা তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের প্রতিটি তথ্য হুবহু মিল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাম, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সামান্য অমিলও আবেদন বিলম্বিত বা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে।

অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে ভিএফএস গ্লোবালে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। ইতালির দূতাবাস জানিয়েছে, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এটি আবেদনকারী নিজেই করতে পারেন। কোনো তৃতীয় পক্ষ বা দালালের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

নির্ধারিত তারিখে আবেদনকারীকে ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে উপস্থিত হয়ে প্রিন্ট করা আবেদনপত্র, পাসপোর্ট, প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র ও ফটোকপি, পেমেন্ট রসিদ এবং অন্যান্য সহায়ক নথি জমা দিতে হয়। একই সঙ্গে আঙুলের ছাপ ও ছবি নিয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর আবেদনটি যাচাইয়ের জন্য ইতালির দূতাবাসে পাঠানো হয়।

আবেদন জমা দেওয়ার পর ভিসা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি অনলাইনে ট্র্যাক করা যায়। ভিএফএস গ্লোবালের ট্র্যাকিং সুবিধার মাধ্যমে আবেদনকারী যেকোনো সময় তার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে পারেন। আবেদন নিষ্পত্তি হলে এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়। এরপর আবেদনকারী নিজে উপস্থিত হয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে পারেন অথবা প্রয়োজনে কুরিয়ার সুবিধাও ব্যবহার করতে পারেন।

ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের জন্য আরও কিছু বিশেষ নিয়ম রয়েছে। ইতালির ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ (Decreto Flussi) কর্মী কোটার আওতায় যাদের বৈধ Nulla Osta বা কর্মসংস্থানের অনুমোদন রয়েছে, তারা নির্ধারিত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। এছাড়া ইতালির সাম্প্রতিক নিয়ম অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগদাতার পক্ষ থেকে চাকরির প্রস্তাব নিশ্চিত করার অতিরিক্ত শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইতালি ভিসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুল হলো অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন করা। জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভুয়া আমন্ত্রণপত্র, ভুয়া ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কিংবা ভুয়া চাকরির কাগজপত্র ব্যবহার করলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে শেনজেন ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই প্রতিটি তথ্য ও নথি অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হওয়া উচিত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা দেওয়ার নামে অনেক প্রতারক চক্র অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে থাকে। ইতালির দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভিসা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভিসা নিশ্চিত করে দিতে পারে না। আবেদনকারীদের তাই সব সময় সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে সরাসরি ভিএফএস গ্লোবালের মাধ্যমে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ থেকে ইতালি ভিসার আবেদন এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ ও সুশৃঙ্খল। তবে অনলাইনে আবেদন শুরু করলেও প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সম্পন্ন করতে আবেদনকারীকে অবশ্যই ভিএফএস গ্লোবাল সেন্টারে উপস্থিত হতে হবে। সঠিক ভিসার ধরন নির্বাচন, নির্ভুল তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করলে ইতালি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া অনেকটাই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page