অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছেই এটি একটি পরিচিত সমস্যা। সকালে কয়েক জিবি ডাটা প্যাক কিনলেন, অথচ দিন শেষে দেখা গেল উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডাটা খরচ হয়ে গেছে। অবাক করার বিষয় হলো, আপনি হয়তো সেভাবে ইউটিউব দেখেননি, ফেসবুকও খুব একটা ব্যবহার করেননি। তারপরও ডাটা কোথায় গেল, সেটি বুঝতে পারেননি।
আরও পড়ুন-তারবিহীন Robi WiFi ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট: ডিভাইসের দাম ও মাসিক প্ল্যান
আসলে মোবাইলে সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও বিভিন্ন কারণে ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা খরচ হতে পারে। অনেক সময় ব্যবহারকারী বিষয়টি টেরও পান না। ফলে ডাটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার রহস্য আরও গভীর মনে হয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের অনেক অ্যাপ সারাক্ষণ ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, জিমেইল কিংবা গুগল ফটোসের মতো অ্যাপগুলো নিয়মিত ডাটা আদান-প্রদান করে থাকে। নতুন নোটিফিকেশন, মেসেজ, ছবি বা ভিডিও আপডেট করার জন্য এসব অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
অনেক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আবার অ্যাপ আপডেটের অপশন ডিফল্টভাবে চালু থাকে। ফলে আপনি কিছু না করলেও Google Play Store বা অন্যান্য অ্যাপ স্টোর ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাপ আপডেট ডাউনলোড করতে পারে। একটি বড় অ্যাপ আপডেট কখনো কখনো কয়েকশ মেগাবাইট পর্যন্ত ডাটা ব্যবহার করতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ক্লাউড ব্যাকআপ। বর্তমানে অধিকাংশ স্মার্টফোন ছবি, ভিডিও, কনট্যাক্ট এবং অন্যান্য ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লাউডে সংরক্ষণ করে। Google Photos, Google Drive, OneDrive বা iCloud-এর মতো সেবাগুলো মোবাইল ডাটা ব্যবহার করেও ব্যাকআপ নিতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী বুঝে ওঠার আগেই কয়েকশ মেগাবাইট বা তার বেশি ডাটা খরচ হয়ে যেতে পারে।
অনেক সময় ফোনে থাকা সিস্টেম সার্ভিস এবং সফটওয়্যার আপডেটও ডাটা ব্যবহার করে। নতুন নিরাপত্তা আপডেট, সিস্টেম সিঙ্ক কিংবা লোকেশন সার্ভিসের কারণে ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা খরচ হতে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, কিছু অ্যাপ বিজ্ঞাপন লোড করার জন্যও নিয়মিত ডাটা ব্যবহার করে। এমনকি অ্যাপ খোলা না থাকলেও অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে এবং সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
অনেক ব্যবহারকারী হটস্পট চালু রেখে ভুলে যান। ফলে অন্য কোনো ডিভাইস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযুক্ত হয়ে ডাটা ব্যবহার করতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে ফোনে ম্যালওয়্যার বা সন্দেহজনক অ্যাপ থাকলেও অস্বাভাবিক ডাটা খরচ দেখা দিতে পারে।
ডাটা দ্রুত শেষ হওয়া রোধ করতে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমত, ফোনের Data Usage সেকশন থেকে কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি ডাটা ব্যবহার করছে তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের Background Data বন্ধ রাখুন। তৃতীয়ত, অ্যাপ আপডেটকে “Wi-Fi Only” মোডে সেট করুন। এছাড়া Google Photos বা অন্যান্য ক্লাউড ব্যাকআপ সেবাগুলোও শুধুমাত্র Wi-Fi ব্যবহারের জন্য নির্ধারণ করা যেতে পারে।
অনেক স্মার্টফোনে Data Saver Mode নামে একটি সুবিধা থাকে। এটি চালু করলে ব্যাকগ্রাউন্ডে ডাটা ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশেষ করে সীমিত ডাটা প্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচার বেশ কার্যকর।
সবশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও ডাটা শেষ হওয়ার পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী থাকে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ, স্বয়ংক্রিয় আপডেট এবং ক্লাউড সিঙ্কিং। তাই ডাটা কোথায় খরচ হচ্ছে তা বুঝতে পারলে সহজেই এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও পড়ুন- বাংলালিংক ওয়াইফাই সংযোগ নেওয়ার নিয়ম










