পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ
পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র

পৃথিবীর কক্ষপথে স্পেস কন্ট্রোল উইপন মোতায়েনের কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

পৃথিবীর কক্ষপথে ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপন’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক ১৪ সেপ্টেম্বর মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে’ এ তথ্য জানান। তবে এসব অস্ত্রের ধরন, সক্ষমতা বা কবে সেগুলো কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।

মেইঙ্ক বলেন, পরিবর্তনশীল হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত রাখতে এবং প্রতিপক্ষের বৈরী কর্মকাণ্ড থেকে যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে কক্ষপথে এ ধরনের সক্ষমতা রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা ‘স্পেস কন্ট্রোল’ মিশনের অংশ এবং প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতাকে মোকাবিলা করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা এসেছে মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার মধ্যে। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, রাশিয়া ও চীন এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ, যোগাযোগে বিঘ্ন সৃষ্টি বা স্যাটেলাইটের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা সম্ভব হতে পারে।

আধুনিক সামরিক ব্যবস্থায় স্যাটেলাইটের গুরুত্ব অনেক বেশি। যোগাযোগ, নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ন্যাভিগেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্যাটেলাইট ব্যবহৃত হয়। ফলে কোনো সংঘাতে প্রতিপক্ষের মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামো অকার্যকর করার সক্ষমতা সামরিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

তবে কক্ষপথে মোতায়েন করা মার্কিন অস্ত্রগুলো ঠিক কী ধরনের, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এগুলো সরাসরি ধ্বংসাত্মক বা ‘কাইনেটিক’ অস্ত্র, নাকি জ্যামিং, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কিংবা অন্য ধরনের ‘নন-কাইনেটিক’ ব্যবস্থা—এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বিস্তারিত জানায়নি।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বলতে মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের সক্ষমতাকে মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণ করার বিভিন্ন কার্যক্রমকে বোঝায়। এর আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় বিঘ্ন সৃষ্টি, তা দুর্বল করা বা ধ্বংস করার ব্যবস্থাও থাকতে পারে। এসব সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক—দুই ধরনের কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাতেও মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। তবে কক্ষপথে বর্তমানে মোতায়েন অস্ত্রগুলো ওই প্রকল্পের অংশ কি না, তা মেইঙ্কের বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়নি।

১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি পৃথিবীর কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র বা অন্য ধরনের গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করেছে। তবে চুক্তিটি মহাকাশে সব ধরনের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা নিষিদ্ধ করে না। মার্কিন কর্মকর্তারাও বলেছেন, তাদের কক্ষপথভিত্তিক সক্ষমতা ওই চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে ইউএস স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করে। মহাকাশে সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সুরক্ষার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের মহাকাশ সক্ষমতা মোকাবিলা করাও এখন এ বাহিনীর দায়িত্বের অংশ। নতুন এই স্বীকারোক্তির মাধ্যমে মহাকাশে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার একটি previously গোপন থাকা দিক প্রকাশ্যে এলো।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর চীন ও রাশিয়া উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। চীন মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের বিরোধিতা করে এটিকে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ঝুঁকি হিসেবে দেখেছে। রাশিয়াও মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে নতুন আইনগত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page