মেসির ১০০তম গোলে ক্যাম্পেওনেস কাপ জয়, ইন্টার মায়ামির ঘরে আরও এক ট্রফি

প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মেসির ১০০তম গোলে ক্যাম্পেওনেস কাপ জয়, ইন্টার মায়ামির ঘরে আরও এক ট্রফি

মেসির ১০০তম গোলের রাতে ক্যাম্পেওনেস কাপ জিতল ইন্টার মায়ামি

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে আরও একটি স্মরণীয় রাত উপহার দিল ইন্টার মায়ামি। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মিয়ামির নু স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর ক্লাব ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ক্যাম্পেওনেস কাপের শিরোপা জিতেছে ইন্টার মায়ামি। এই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে গোল করে তিনি ইন্টার মায়ামির হয়ে নিজের ১০০তম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর গোল ইন্টার মায়ামির জয় নিশ্চিত করে। ফলে ক্লাবটির ইতিহাসে যোগ হলো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি।

ক্যাম্পেওনেস কাপ হলো মেজর লিগ সকার বা এমএলএস এবং মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যকার এক ম্যাচের শিরোপা নির্ধারণী লড়াই। ২০২৬ সালের আসরে ইন্টার মায়ামি খেলেছে এমএলএস কাপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে, আর তাদের প্রতিপক্ষ ছিল লিগা এমএক্সের চ্যাম্পিয়ন ক্রুজ আজুল। এর আগে সাতটি আসরে লিগা এমএক্সের ক্লাব চারবার এবং এমএলএসের ক্লাব তিনবার শিরোপা জিতেছিল। তাই এবারের ম্যাচটি দুই দেশের ক্লাব ফুটবলের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছিল।

নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছিল ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের ২৪তম মিনিটে সেই প্রচেষ্টার ফল আসে। লুইস সুয়ারেজের করা ক্রস থেকে মেসি দারুণ হেডে বল জালে পাঠান। গোলটি শুধু ইন্টার মায়ামিকে এগিয়ে দেয়নি, মেসির ব্যক্তিগত ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় তৈরি করে। এটি ছিল ইন্টার মায়ামির জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার ১০০তম গোল। মাত্র ১১৫টি ম্যাচে এই মাইলফলকে পৌঁছান তিনি।

মেসির গোলের পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ক্রুজ আজুল সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও ইন্টার মায়ামির রক্ষণভাগ তাদের একাধিক আক্রমণ সামলে দেয়। অন্যদিকে মায়ামিও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই সুযোগ কাজে লাগান কাসেমিরো। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডারের গোলের পর ইন্টার মায়ামি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান আর বদলায়নি এবং ঘরের মাঠে ট্রফি জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে মায়ামির খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা।

এই শিরোপা মেসির ইন্টার মায়ামি অধ্যায়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ২০২৩ সালে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আর্জেন্টাইন তারকার উপস্থিতিতে দলটি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। এর আগে মেসির নেতৃত্বে ইন্টার মায়ামি লিগস কাপ জিতেছে, ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড জিতেছে এবং ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জিতেছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো ক্যাম্পেওনেস কাপ। ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জয়ের ম্যাচেও মেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং দুইটি অ্যাসিস্ট করে এমভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তবে এই ম্যাচের বিশেষত্ব শুধু দলীয় শিরোপায় সীমাবদ্ধ নয়। মেসির ১০০তম গোলের মাইলফলকও রাতটিকে আলাদা করে তুলেছে। ক্যাম্পেওনেস কাপ জয়ের পাশাপাশি নিজের ক্লাব ক্যারিয়ারের আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান যোগ করলেন তিনি। মাত্র কয়েক দিন আগেই ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে গোল করে ইন্টার মায়ামির হয়ে ৯৯ গোলে পৌঁছেছিলেন মেসি। সেই ম্যাচে তার গোল তাকে ২০২৬ এমএলএস মৌসুমে ১৯ গোলে নিয়ে যায় এবং তখন তিনি লিগের গোল্ডেন বুট দৌড়েও শীর্ষে ছিলেন।

ইন্টার মায়ামির জন্য এই জয় আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। দলটি ২০২৬ মৌসুমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং ক্যাম্পেওনেস কাপের মতো একটি আন্তর্জাতিক ক্লাব ট্রফি সেই যাত্রায় নতুন আত্মবিশ্বাস যোগ করবে। অন্যদিকে মেসির জন্য ১০০তম গোল এবং নতুন ট্রফি একই রাতে পাওয়া ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও তার ধারাবাহিক প্রভাবের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকল। ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইন্টার মায়ামি শুধু শিরোপাই জেতেনি, মেসির ১০০তম গোলের মাধ্যমে রাতটিকে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়েও পরিণত করেছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page