ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)–এর স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিম্নআয়ের মানুষের কাছে স্বল্প মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিতে সরকার পরিচালিত এ কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকাতেও জোরদার করা হয়েছে। নতুন করে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) ৩৩টি ওয়ার্ডে ২ হাজার ৭৮১ জন উপকারভোগীর মধ্যে টিসিবির স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রসিকের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন।
আরও পড়ুন-ঈদ সামনে রেখে সোমবার থেকে টিসিবির ট্রাক সেল শুরু
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান। এ সময় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রাজ কুমার বিশ্বাসসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, স্মার্টকার্ড পদ্ধতির মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহজে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে টিসিবির সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে অনিয়ম ও ভোগান্তিও কমে এসেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে রসিক এলাকায় টিসিবির মোট ৯৯ হাজার ২৬৮ জন উপকারভোগী রয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭৯ হাজার ৮৯৮ জনের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি উপকারভোগীদের কাছেও স্মার্টকার্ড বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টিসিবির স্মার্টকার্ড ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকারভোগীরা সরকার নির্ধারিত কম মূল্যে চাল, ডাল, চিনি, সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারছেন। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য এই কার্যক্রম বড় ধরনের স্বস্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে দিনমজুর, শ্রমজীবী ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো টিসিবির পণ্যের মাধ্যমে কিছুটা হলেও আর্থিক চাপ কমাতে পারছেন।
স্মার্টকার্ড ব্যবস্থার কারণে এখন আগের তুলনায় পণ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াও সহজ হয়েছে। উপকারভোগীদের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, ফলে একই ব্যক্তি একাধিকবার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমে এসেছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে উপকারভোগীদের তালিকা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করা আরও সহজ হচ্ছে।
অনেকেই জানতে চান, কীভাবে টিসিবির স্মার্টকার্ড পাওয়া যায় বা আবেদন করতে হয়। সাধারণত স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও পারিবারিক তথ্য জমা দিতে হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে স্মার্টকার্ড প্রদান করে থাকে। কার্ড পাওয়ার পর নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য সংগ্রহ করা যায়।
অনুষ্ঠানে রসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে টিসিবির কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, স্মার্টকার্ড চালুর ফলে সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন। প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রংপুর নগরীর কয়েকজন উপকারভোগী জানান, বাজারে প্রতিনিয়ত পণ্যের দাম বাড়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিসিবির পণ্য অনেক পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠেছে। একজন উপকারভোগী বলেন, “আগে অনেক সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হতো। এখন স্মার্টকার্ড পাওয়ার পর সহজেই পণ্য নিতে পারছি। এতে সময়ও কম লাগছে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় টিসিবির স্মার্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও বেশি মানুষকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে। এর ফলে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-টিসিবি কার্ড করতে কী কী লাগে জানুন নতুন নিয়ম কাগজপত্র ও আবেদন পদ্ধতি










