সুন্দরবন সংলগ্ন ১৮ রিসোর্ট বন্ধের নির্দেশ
সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ ও স্থাপনা সরানোর নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
সুন্দরবন ঘেঁষে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন ১৮টি রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব রিসোর্টের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে গত রোববার (৪ অক্টোবর) রিসোর্ট মালিকদের কাছে এ সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়। সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর রশীদ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিবেশ আইন অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ১৮টি রিসোর্টের মধ্যে ১০ প্রতিষ্ঠানকে ৩০ দিনের মধ্যে এবং আট প্রতিষ্ঠানকে ১৫ দিনের মধ্যে সব ধরনের স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত রিসোর্টগুলো হলো—অরণ্যছায়া, অরণ্যবাড়ী, কেওড়াবন, মায়াবন, গহন, দ্য ফরেস্ট রিট্রিট, নিকুঞ্জ ভ্যালি, লা সিলভা কটেজ, বনবিবি, সুন্দরী, ইরাবতী, বনমালী, গোলকানন, পিয়ালী, ম্যানগ্রোভ, জঙ্গলবাড়ী, বনবাস ও বনলতা ইকো কটেজ।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, নিয়মিত মামলা করাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর রশীদ জানান, খুলনা জেলা কার্যালয়ের আওতাধীন সুন্দরবনের ঢাংমারী, কৈলাসগঞ্জ ও বাণিশান্তা এলাকায় এসব রিসোর্ট রয়েছে। অনুমোদন ছাড়া রিসোর্ট নির্মাণ করায় এর আগে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, রিসোর্ট মালিকরা শোকজের জবাব ও অনুমোদনের জন্য আবেদন করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে পারেননি। ফলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের আবেদন বাতিল করা হয়। এরপর সব প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন তৈরি হওয়া আটটি রিসোর্টকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবার তাদের সাত দিনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ এবং ১৫ দিনের মধ্যে স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় অনুমোদনহীন স্থাপনা ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
