শহীদ ওসমান হাদির নাম মুছে ফেরানো হচ্ছে পুরোনো নাম, ঢাবির হলে নতুন আলোচনা

প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
শহীদ ওসমান হাদির নাম মুছে ফেরানো হচ্ছে পুরোনো নাম, ঢাবির হলে নতুন আলোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের গেট থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক সরানোর কার্যক্রম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটক থেকে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক সরিয়ে আবার ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নাম ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে নামফলক সরানোর কাজ শুরু হয়। বিষয়টি ঘিরে হল সংসদ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

হল সংসদের ভিপি মো. মুসলিমুর রহমান জানিয়েছেন, হল সংসদকে না জানিয়েই নামফলক সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানান। প্রশাসন বা অন্য কোনো পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাকে আগে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মুসলিমুর রহমান জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

কারা নামফলকটি সরাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার ধারণা, এর পেছনে প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ থাকতে পারে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নাম পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়ে থাকলে সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতেও প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

হলের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে হল সংসদের অবস্থান তুলে ধরে মুসলিমুর রহমান বলেন, তারা শেখ মুজিবুর রহমানের নাম পরিবর্তনের পক্ষে। তার নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি’ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে হলের নাম করা হলেও তাদের আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হল ফ্যাসিস্টের নামে না থাকার দাবি তাদের। বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টি অধিকতর বিবেচনার জন্য রেখে দিয়েছে উল্লেখ করে দ্রুত এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসার দাবি জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত সিনেট সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল এবং পরে অধিকতর বিবেচনার জন্য তা সিন্ডিকেটে পাঠানো হয়েছে।

‘শহীদ ওসমান হাদি’ নামকরণের পেছনের ঘটনাও তুলে ধরেন হল সংসদের ভিপি। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হলের নাম ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ লেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে ৮০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি স্মারকলিপি তৎকালীন উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়। নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন (ইসরাফিল প্রাং রতন) বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান হলের গেটে হাদির নাম লেখা ছিল এবং সেটি মুছে ফেলা হচ্ছে—এমন খবর তিনিও পেয়েছেন। তবে নতুন কোনো নাম দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান।

প্রক্টর আরও বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনিও কিছু জানেন না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হলটির ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানিয়েছেন, গত সিনেটে আগের নামগুলো আগের মতো রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই নামফলক ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হলের প্রধান ফটকের পুরোনো নামফলক সরিয়ে সেখানে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নাম লিখে দেন। পরে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় হলটির নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে সেই সুপারিশ চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বুধবার ‘শহীদ ওসমান হাদি হল’ নামফলক সরিয়ে আগের নাম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে হলটির নাম পরিবর্তন নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে হল সংসদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম না রাখার দাবি রয়েছে, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী আগের নাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page