রকেট একাউন্ট খুলবেন কীভাবে? প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ রেজিস্ট্রেশনের সহজ নিয়ম

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ জুন, ২০২৪, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
রকেট একাউন্ট খুলবেন কীভাবে? প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ রেজিস্ট্রেশনের সহজ নিয়ম

রকেট একাউন্ট খোলার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় তথ্য।

বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। টাকা পাঠানো, টাকা জমা, ক্যাশ আউট, বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন আর্থিক কাজে মোবাইল ব্যাংকিং এখন অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস রকেটও দীর্ঘদিন ধরে এই সেবা দিয়ে আসছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২০১১ সালের ৩১ মার্চ রকেট সেবা চালু করে। বর্তমানে রকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নেওয়া যায়।

রকেট একাউন্ট খোলার জন্য গ্রাহককে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বর্তমান গ্রাহক সনদ অনুযায়ী, যেকোনো মোবাইল অপারেটরের নম্বর ব্যবহার করে প্রি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া অথবা অনুমোদিত রকেট এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা যায়। প্রক্রিয়াটি শুরু করার জন্য *322# ডায়াল করা যায়। এরপর মোবাইলের স্ক্রিনে আসা নির্দেশনা অনুসরণ করে নিজের পছন্দের চার সংখ্যার একটি পিন দিতে হয়। রেজিস্ট্রেশনের অংশ হিসেবে যথাযথভাবে পূরণ করা KYC বা গ্রাহক পরিচিতি ফরম, এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং বৈধ ছবি-যুক্ত পরিচয়পত্র প্রয়োজন হয়।

রকেট একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সরাসরি অর্থ লেনদেন যুক্ত থাকে। তাই গ্রাহকের দেওয়া তথ্য ও পরিচয়পত্র যাচাই করে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। পুরোনো অফিসিয়াল রকেট নির্দেশনাতেও KYC ফরমের সঙ্গে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকের মোবাইলে একটি ইউএসএসডি বা আইভিআর নির্দেশনা আসার পর চার সংখ্যার পিন নির্ধারণের প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে।

রকেট একাউন্ট খোলার জন্য সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো কাছাকাছি অনুমোদিত রকেট এজেন্টের কাছে যাওয়া। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের মনোনীত এজেন্ট পয়েন্টে গ্রাহক রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। রকেটের এজেন্ট নেটওয়ার্কও দেশের বিভিন্ন বিভাগে বিস্তৃত। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অবশ্যই অনুমোদিত এজেন্টের কাছ থেকেই সেবা নেওয়া উচিত এবং নিজের পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত বা অননুমোদিত কারও হাতে দেওয়া থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

রেজিস্ট্রেশনের সময় পিন নির্বাচন করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রকেটের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য পিন ব্যবহার করা হয় এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে পিন প্রয়োজন হতে পারে। তাই সহজে অনুমান করা যায় এমন সংখ্যা ব্যবহার না করে নিজের জন্য নিরাপদ পিন নির্বাচন করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পিন কাউকে জানানো যাবে না। ব্যাংক বা রকেটের পরিচয় দিয়ে কেউ পিন জানতে চাইলে সেটিও দেওয়া উচিত নয়। রকেটের অফিসিয়াল নির্দেশনায় পিনকে গোপন রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রকেট একাউন্ট চালু হওয়ার পর গ্রাহক এতে টাকা জমা বা ক্যাশ ইন করতে পারেন। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রকেট অ্যাকাউন্টে ক্যাশ ইন করা যায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শাখা, মনোনীত এজেন্টসহ নির্দিষ্ট অনুমোদিত পয়েন্ট থেকে। ক্যাশ ইন করার সময় গ্রাহকের মোবাইলে লেনদেনের বিষয়ে এসএমএস বা আইভিআর বার্তা আসতে পারে। ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, লেনদেনের পর প্রাপ্ত বার্তার নম্বর ও টাকার পরিমাণ মিলিয়ে দেখা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রকেট একাউন্টের মাধ্যমে শুধু টাকা জমা বা উত্তোলন নয়, অন্য রকেট গ্রাহককে টাকা পাঠানো, মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং বিভিন্ন বিল পরিশোধের মতো সেবাও ব্যবহার করা যায়। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, রকেট থেকে রকেট অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর জন্য *322# ইউএসএসডি সেবা ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ব্যাংকের সঙ্গে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের অর্থ স্থানান্তরের সুবিধার কথাও ব্যাংকের গ্রাহক সনদে উল্লেখ রয়েছে।

রকেট একাউন্ট খোলার আগে গ্রাহকের উচিত নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, বৈধ পরিচয়পত্র এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা। রেজিস্ট্রেশনের সময় দেওয়া তথ্য সঠিক হওয়া জরুরি। ভুল তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার চেষ্টা না করে নিজের প্রকৃত পরিচয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যবহার করা উচিত। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট খোলার পর মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, পিন সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্য কোনো জটিলতা দেখা দিলে অনুমোদিত রকেট বা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়া ভালো। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বর্তমান গ্রাহক সনদে ২৪/৭ কাস্টমার সার্ভিসের নম্বর হিসেবে ১৬২১৬ উল্লেখ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, রকেট একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া খুব জটিল নয়। প্রি-রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদিত এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করে প্রয়োজনীয় KYC তথ্য, ছবি ও বৈধ পরিচয়পত্র জমা দিতে হয় এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় চার সংখ্যার পিন সেট করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর রকেটের বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সর্বশেষ নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রযোজ্য শর্ত অবশ্যই ডাচ্-বাংলা ব্যাংক বা রকেটের অফিসিয়াল তথ্য থেকে যাচাই করা উচিত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page