ডিজিটাল পেমেন্টে রবির বড় পদক্ষেপ, অনুমোদন পেল ‘স্মার্ট পে’

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল পেমেন্টে রবির বড় পদক্ষেপ, অনুমোদন পেল ‘স্মার্ট পে’

ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় রবির নতুন উদ্যোগ স্মার্ট পে।

দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বাজারে নতুনভাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্মার্ট পে লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP) হিসেবে কাজ করার জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) পেয়েছে। রবি ১৪ অক্টোবর ২০২৫ সালে এ অনুমোদনের তথ্য জানায়।

রবির সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত স্মার্ট পে মূলত ফিনটেকভিত্তিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পিত সেবার মধ্যে রয়েছে বিল পরিশোধ, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেনসংশ্লিষ্ট সেবা। অর্থাৎ, এটি কেবল মোবাইল রিচার্জকেন্দ্রিক কোনো সেবা নয়; বরং রবি গ্রুপের ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের একটি উদ্যোগ।

স্মার্ট পে প্রতিষ্ঠার পেছনে রবির আগের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। রবি এতদিন তাদের ‘রবি ক্যাশ’ অ্যাপের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে কিছু ডিজিটাল সেবা দিয়ে আসছিল। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা মোবাইল রিচার্জ, বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং ট্রেনের টিকিট কেনার মতো সুবিধা নিতে পারতেন। তবে ক্যাশ আউট কিংবা অন্য অপারেটরের হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের মতো সুবিধা ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শ অনুযায়ী এ ধরনের পেমেন্ট সেবা পরিচালনার জন্য আলাদা লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ নেয় রবি।

রবি ২০২২ সালে স্মার্ট পে লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করে। তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, এটি রবির শতভাগ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গঠিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য ছিল ফিনটেকভিত্তিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সেবা পরিচালনা করা।

রবির আর্থিক নথিতেও স্মার্ট পে সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মধ্যে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট, পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) ট্রান্সফার, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট বিল পেমেন্ট এবং মোবাইল রিচার্জের মতো সেবা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের PSP অনুমোদনের মাধ্যমে এসব সেবা আরও আনুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালনার পথ তৈরি হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের NOC পাওয়া মানেই স্মার্ট পে’র সব সেবা গ্রাহকদের জন্য ইতোমধ্যে চালু হয়ে গেছে—এমন নয়। NOC হলো PSP হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট সেবা কবে চালু হবে, কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, চার্জ কত হবে বা কোন কোন লেনদেন করা যাবে—এসব বিষয়ে রবি ও স্মার্ট পে’র পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন এই প্ল্যাটফর্ম চালু হলে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে দেশে ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ দিচ্ছে। এর মধ্যে একটি বড় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্মার্ট পে’র প্রবেশ গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে বিল পরিশোধ, ইউটিলিটি পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট এবং ডিজিটাল অর্থ স্থানান্তরের মতো দৈনন্দিন সেবা একটি প্ল্যাটফর্মে সহজভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে ব্যবহারকারীদের সুবিধা বাড়তে পারে। তবে সেবার পরিধি, লেনদেনের সীমা, চার্জ ও ব্যবহারবিধি সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অনুমানভিত্তিক তথ্য প্রচার না করাই ভালো।

সব মিলিয়ে, রবির স্মার্ট পে’র PSP হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের NOC পাওয়া দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর কয়েক ধাপ পেরিয়ে ২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পাওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে সেবা চালুর প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে গ্রাহকদের জন্য স্মার্ট পে’র পূর্ণাঙ্গ সেবা কবে এবং কীভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে রবির পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page