দেশে ৩০.৪% প্রাপ্তবয়স্ক বাতরোগে আক্রান্ত, বাড়ছে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি

প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
দেশে ৩০.৪% প্রাপ্তবয়স্ক বাতরোগে আক্রান্ত, বাড়ছে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি

দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০.৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞদের সম্মেলনে গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও কর্মক্ষমতা হারানোর সমস্যায় ভুগছেন। রাজধানীতে আয়োজিত এক রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এসব তথ্য তুলে ধরেছেন।

শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে প্রফেসর নজরুল রিউমাটোলজি ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ (পিএনআরএফআর) ট্রাস্ট আয়োজিত ‘১০ম রোগী শিক্ষা কার্যক্রম ও ১ম বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে’ এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

সম্মেলনে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০১৫ সালের জাতীয় পর্যায়ের মাসকুলোস্কেলিটাল (এমএসকে) গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ বাতরোগে আক্রান্ত। এদের মধ্যে ২৪ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হন। এছাড়া ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বছরের কোনো না কোনো সময়ে কাজের সক্ষমতা হারান।

এর আগে আঞ্চলিক কোপকর্ড (COPCORD) সার্ভেতেও দেশের ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের হাড় ও পেশীর ব্যথায় ভোগার প্রমাণ পাওয়া যায়।

এদিকে এশীয় জনমিতি ও আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অস্টিওপোরোসিসের প্রাদুর্ভাব ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এর অর্থ প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত। পাশাপাশি ২০২৬ সাল নাগাদ ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের প্রায় ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ৬৫ লাখ ৬০ হাজার নারী অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বাত ও ব্যথাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিএনআরএফআর ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নীরা ফেরদৌস।

দেশে বাতরোগের প্রকোপ ও করণীয় নিয়ে পিএনআরএফআর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে অনেক বাতের রোগী স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। এর ফলে কর্মক্ষম মানুষের কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারগুলোও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তিনি বলেন, রোগীদের অসচেতনতা, চিকিৎসার ব্যয় বহনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সুসংগঠিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা বাতরোগের সুচিকিৎসার অন্যতম প্রধান বাধা।

দিনব্যাপী রোগী সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের (বিএমইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের কাউন্সিলর ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. মাহমুদ হোসেন, বিসিবির মেডিকেল কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, মেজর জেনারেল কাজী ইফতেখার-উল-আলম, পিএনআরএফআর-এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. পিযুষ কান্তি বিশ্বাস এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ অন্যরা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page