প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের টাকা তুলবেন কীভাবে? জানুন আবেদন, কাগজপত্র ও উত্তোলনের সম্পূর্ণ নিয়ম (২০২৬)

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের টাকা তুলবেন কীভাবে? জানুন আবেদন, কাগজপত্র ও উত্তোলনের সম্পূর্ণ নিয়ম (২০২৬)

বাংলাদেশে প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের টাকা উত্তোলনের সর্বশেষ নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া।

প্রাইজবন্ডে পুরস্কার জেতা অনেকের জন্য আনন্দের খবর হলেও, এরপর কীভাবে সেই পুরস্কারের টাকা উত্তোলন করতে হবে—এ বিষয়টি নিয়ে এখনও অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। অনেকেই ড্রয়ে বিজয়ী হওয়ার পরও সময়মতো আবেদন না করায় বা সঠিক নিয়ম না জানার কারণে ভোগান্তিতে পড়েন। তাই প্রাইজবন্ডের পুরস্কার জিতলে কোথায় আবেদন করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কতদিনের মধ্যে টাকা তুলতে হবে এবং কীভাবে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে—এসব বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা জরুরি।

বাংলাদেশে প্রাইজবন্ডের ড্র পরিচালনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর—এই চারটি নির্ধারিত তারিখে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। ড্র শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক বিজয়ী নম্বরের তালিকা প্রকাশ করে। এছাড়া অনুমোদিত ব্যাংকের শাখা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যায়। তাই প্রথমেই আপনার প্রাইজবন্ডের নম্বরটি বিজয়ী তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে সেটি কোনো পুরস্কার পেয়েছে কি না।

পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। শুধুমাত্র ড্রয়ে বিজয়ী হওয়াই যথেষ্ট নয়; পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত Prize Bond Claim Form পূরণ করতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে মূল প্রাইজবন্ড জমা দিতে হবে। প্রাইজবন্ডের নম্বর স্পষ্ট থাকতে হবে এবং এটি ছেঁড়া বা বিকৃত হলে যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।

আবেদন করার সময় আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের কপি, প্রয়োজন অনুযায়ী ই-টিআইএন (e-TIN) সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য নথি জমা দিতে হতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করা না গেলে আইনগতভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ উত্তোলনের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত অফিস অথবা প্রাইজবন্ড-সংক্রান্ত সেবা প্রদানকারী অনুমোদিত তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দেওয়া যায়। আবেদন গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাইজবন্ডের নম্বর, আবেদনকারীর পরিচয় এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে। যাচাই সম্পন্ন হলে নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

পুরস্কারের টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়সীমা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে দুই বছরের মধ্যে পুরস্কারের দাবি করতে হবে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে সেই পুরস্কারের অর্থ আর উত্তোলন করা যায় না। তাই ফলাফল প্রকাশের পর যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পুরস্কারের অর্থ পরিশোধের আগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী উৎসে কর (Tax at Source) কেটে রাখা হয়। বর্তমানে প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের ওপর প্রযোজ্য কর কেটে অবশিষ্ট অর্থ আবেদনকারীকে প্রদান করা হয়। তাই ঘোষিত পুরস্কারের পুরো অর্থ হাতে পাওয়া যায় না। সরকার বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) করের হার পরিবর্তন করলে সেই হারই কার্যকর হয়।

অনেকেই জানতে চান, প্রাইজবন্ড হারিয়ে গেলে কী হবে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কার দাবি করতে মূল প্রাইজবন্ড জমা দিতে হয়। তাই প্রাইজবন্ড কেনার পর সেটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বন্ডের সিরিজ ও নম্বর আলাদাভাবে লিখে রাখলে ভবিষ্যতে তথ্য যাচাই করতে সুবিধা হয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইজবন্ডের পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার নামে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার ঘটনা দেখা যায়। অনেকেই ফোন বা বার্তার মাধ্যমে পুরস্কার পাওয়ার কথা বলে আগে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চেয়ে বসে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের কোনো পদ্ধতিতে পুরস্কারের অর্থ প্রদান করে না। তাই এ ধরনের প্রলোভনে সাড়া না দিয়ে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অনুমোদিত ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইজবন্ডের পুরস্কার উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়া খুবই সহজ, যদি আবেদনকারী সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করেন। নির্ধারিত আবেদনপত্র সঠিকভাবে পূরণ করা, মূল প্রাইজবন্ড সংরক্ষণ করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলেই সাধারণত কোনো জটিলতা হয় না। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করলে প্রতারণার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়, প্রাইজবন্ডে পুরস্কার জিতলে অযথা দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রথমে বিজয়ী নম্বর নিশ্চিত করুন, এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত ক্লেইম ফরম পূরণ করে মূল প্রাইজবন্ডসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন। যাচাই শেষে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী উৎসে কর কেটে পুরস্কারের অর্থ পরিশোধ করা হবে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ড্রয়ের তারিখ থেকে দুই বছরের মধ্যে দাবি না করলে সেই পুরস্কারের অর্থ আর উত্তোলন করা যাবে না। তাই সময়মতো আবেদন করাই পুরস্কার পাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page