প্রাইজবন্ড কিনতে কোন ব্যাংকে যাবেন? দেখুন অনুমোদিত ব্যাংকের সর্বশেষ আপডেট তালিকা

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:১১ অপরাহ্ণ
প্রাইজবন্ড কিনতে কোন ব্যাংকে যাবেন? দেখুন অনুমোদিত ব্যাংকের সর্বশেষ আপডেট তালিকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় প্রাইজবন্ড কেনা ও নগদায়নের সুবিধা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে নিরাপদ সঞ্চয় ও পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা—এই দুই সুবিধার সমন্বয়ে প্রাইজবন্ড দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় একটি বিনিয়োগমাধ্যম। অল্প টাকায় প্রাইজবন্ড কিনে নির্ধারিত সময় পরপর ড্রয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকেই এটি সংগ্রহ করে থাকেন। তবে এখনো অনেকের মনে একটি সাধারণ প্রশ্ন থাকে—প্রাইজবন্ড কোন কোন ব্যাংকে পাওয়া যায়? এছাড়া কোথা থেকে প্রাইজবন্ড কেনা যাবে, কোথায় নগদায়ন করা যাবে এবং কোন ব্যাংক এই সেবা দেয়—এসব বিষয় নিয়েও অনেকের আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রাইজবন্ড ইস্যু ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে প্রাইজবন্ড সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই কিনতে হবে—এমন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের নির্ধারিত শাখা থেকেও প্রাইজবন্ড কেনা, বিক্রি এবং নগদায়নের সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনেক গ্রাহক সহজেই এই সেবা গ্রহণ করতে পারেন।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত, বিশেষায়িত ও বেসরকারি ব্যাংকের নির্বাচিত শাখায় প্রাইজবন্ড বিক্রি ও নগদায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সব অফিস। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত শাখা থেকে গ্রাহকরা সহজেই প্রাইজবন্ড সংগ্রহ করতে পারেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক সময়ে সময়ে আরও কিছু তফসিলি ব্যাংকের নির্দিষ্ট শাখাকে প্রাইজবন্ড বিক্রি ও নগদায়নের অনুমোদন দিয়ে থাকে। তবে সব শাখায় এই সেবা চালু নাও থাকতে পারে। তাই কোনো ব্যাংকে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট শাখায় ফোন করে বা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট হবে না এবং দ্রুত সেবা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ১০০ টাকা মূল্যমানের পাশাপাশি ৫০০ টাকা এবং ১,০০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডও প্রচলিত রয়েছে। যে মূল্যমানের প্রাইজবন্ডই কেনা হোক না কেন, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তা ড্রয়ে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ী হলে সংশ্লিষ্ট পুরস্কার পাওয়ার সুযোগ থাকে। প্রাইজবন্ড কেনার সময় কোনো অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয় না; শুধু বন্ডের মূল্য পরিশোধ করলেই তা সংগ্রহ করা যায়।

প্রাইজবন্ড কেনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি একটি নিরাপদ সঞ্চয়পত্রের মতো মূলধন সুরক্ষিত রাখে। অর্থাৎ আপনি যদি ভবিষ্যতে প্রাইজবন্ড ভাঙাতে চান, তাহলে নির্ধারিত ব্যাংকে জমা দিয়ে মূল মূল্য ফেরত নিতে পারবেন। তবে পুরস্কার পাওয়া সম্পূর্ণভাবে ড্রয়ের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।

প্রাইজবন্ডের ড্র বছরে চারবার অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত ৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই এবং ৩১ অক্টোবর ড্র অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত দিন সরকারি ছুটি হলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ড্রয়ের ফলাফল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশ করে এবং অনুমোদিত ব্যাংকের শাখাগুলোতেও বিজয়ী নম্বরের তালিকা পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল দেখা সম্ভব।

যদি কোনো প্রাইজবন্ড ড্রয়ে পুরস্কার পায়, তাহলে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে মূল প্রাইজবন্ডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কারের অর্থ প্রদান করা হয়। তবে পুরস্কার দাবি করার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। তাই ড্রয়ের ফলাফল প্রকাশের পর নিয়মিত নিজের প্রাইজবন্ডের নম্বর মিলিয়ে দেখা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাইজবন্ড কেনার সময় অবশ্যই অনুমোদিত ব্যাংকের শাখা থেকেই সংগ্রহ করা উচিত। কেনার পর বন্ডটি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে এবং এর নম্বর আলাদাভাবে লিখে রাখা ভালো। কারণ প্রাইজবন্ড হারিয়ে গেলে পুরস্কার দাবি বা নগদায়ন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে যেতে পারে।

বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের কারণে অনেকেই অনলাইনে প্রাইজবন্ড সম্পর্কে তথ্য খুঁজছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রাইজবন্ড অনলাইনে ইস্যু বা ডিজিটালভাবে কেনার সুবিধা চালু হয়নি। তাই গ্রাহকদের অনুমোদিত ব্যাংকের শাখায় গিয়েই প্রাইজবন্ড সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া তথ্য বা প্রতারণামূলক অফার থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, প্রাইজবন্ড কিনতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বিডিবিএল, রাকাব এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের অনুমোদিত শাখাগুলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য স্থান। প্রাইজবন্ড কেনা, সংরক্ষণ, ড্রয়ের ফলাফল যাচাই এবং প্রয়োজনে পুরস্কার দাবি—সব ক্ষেত্রেই সরকারি নিয়ম অনুসরণ করলে নিরাপদ ও ঝামেলামুক্তভাবে এই সেবা গ্রহণ করা সম্ভব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page