প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বাদ পড়াদের নিয়ে নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হলেও কিছু প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেন তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি এবং ভেরিফিকেশনের কোন মানদণ্ডে কাউকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও আইনসম্মত কোনো অভিযোগ নেই, তাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করা উচিত। একই সঙ্গে বাদ পড়ার প্রক্রিয়া ও ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের আগে থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং নিয়োগপত্র দেওয়ার সময়সূচি নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। ২০২৫ সালের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচিতদের আগামী ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের রোডম্যাপ অনুযায়ী, যোগদানের পর ৪ অক্টোবর নির্বাচিত শিক্ষকদের পদায়ন করার কথা রয়েছে। এরপর তাঁদের প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হবে। নিয়োগপত্র যথাসময়ে প্রেরণের কথাও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে।
তবে নিয়োগপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর কিছু প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি সামনে এনেছেন নাহিদ ইসলাম।
নিজের পোস্টে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনের নামে অন্তত এক হাজার তরুণকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রার্থী লিখিত ও অন্যান্য ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। পরে তাঁদের নিয়োগপত্র না দেওয়ায় তাঁরা অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের দাবি, বাদ পড়া প্রার্থীদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ফৌজদারি মামলা বা সাধারণ ডায়েরির তথ্য নেই। অতীতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য না থাকার পরও তাঁদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা, কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে কোন কোন কারণে প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, লিখিত, মৌখিকসহ নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর কোনো প্রার্থীকে ভেরিফিকেশনের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হলে সেই সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, যাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ও আইনসম্মত অভিযোগ নেই, তাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ভেরিফিকেশনে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে, সেটিও জনসমক্ষে জানানো প্রয়োজন।
এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের এই ব্যাচের যোগদান নিয়ে এর আগেও সময়সূচি পরিবর্তন হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের তারিখ ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ৪ অক্টোবর পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে যাঁরা নিয়োগপত্র পেয়েছেন, তাঁদের জন্য এখন মূল বিষয় হচ্ছে নির্ধারিত সময়ে যোগদান সম্পন্ন করা। অন্যদিকে যাঁরা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের কারণ ও ভেরিফিকেশন-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বাদ পড়া প্রার্থীদের সংখ্যা, কারণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
