এআই রোবটিক্সে ভবিষ্যৎ পর্যটনের ভাবনা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালি
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালন শুরু হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ র্যালি, ফুড ফেস্টিভালসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজনে দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিক্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতের পর্যটন খাতকে আরও উন্নত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
রোববার ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনের সামনে থেকে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
র্যালিতে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী পোশাক পরে অংশ নেন। কেউ কৃষকের, কেউ জেলের, কেউ বাউলের চরিত্রে সেজে র্যালিতে অংশ নেন। পাশাপাশি দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং পর্যটন খাতের বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত পোশাকও তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা।
র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা, ড. আফরোজা বুলবুল, সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক নাছির মিয়াসহ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে র্যালিটি বটতলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজন করা হয় ফুড ফেস্টিভাল। বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টলে দেশীয় খাবার, পিঠা, কেক ও প্রসাধনীসহ নানা ধরনের পণ্য নিয়ে অংশ নেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী স্থান সম্পর্কে দর্শনার্থীদের ধারণা দিতে কয়েকটি স্টল সাজানো হয়।
আয়োজনে অংশ নেওয়া বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সালেহা রহমান অহনা বাউলের চরিত্রে র্যালিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, কুষ্টিয়া সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জেলা হওয়ায় লালনের বাউল সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই তিনি এই চরিত্র বেছে নিয়েছেন। তাঁর মতে, লালনের মাজারে দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক আসেন এবং বাউল সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পর্যটন সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী চাকমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের ঐতিহ্যবাহী পিনন-হাদি পোশাক পরে র্যালিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এই পোশাক নির্বাচন করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী বাপ্পি মজুমদার শুভ বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন পর্যটন ও ঐতিহ্যবাহী স্থানকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও হেরিটেজ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
ফুড ফেস্টিভালে বিভাগের প্রভাষক ইয়ামিন মাসুম বলেন, পর্যটন বর্তমানে একটি সম্প্রসারণশীল শিল্প। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি, বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স ও বিগ ডাটা অ্যানালিটিক্স পর্যটন খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যতের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। এই ধারণাকে সামনে রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্যও নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এ ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান উপাচার্য।
বিশ্ব পর্যটন দিবস প্রতি বছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। জাতিসংঘের পর্যটনবিষয়ক সংস্থা ইউএন ট্যুরিজমের উদ্যোগে পর্যটনের গুরুত্ব, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা এবং বিভিন্ন দেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরতে দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এবারের আয়োজনেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ পর্যটনের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
