নগদ অ্যাপে বড় নিরাপত্তা আপডেট, NID স্ক্যান করলেই মিলবে বাড়তি সুরক্ষা
নগদ অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যানের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই ও কেওয়াইসি প্রক্রিয়া।
মোবাইল আর্থিক সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের পরিচয় যাচাই ও অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তায়ও গুরুত্ব বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নগদ অ্যাপে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা ও পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধা রয়েছে। নগদের বর্তমান অ্যাপ তথ্য অনুযায়ী, নতুন অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি সেলফি ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রয়েছে।
কেওয়াইসি বা ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি আর্থিক সেবার গ্রাহকের পরিচয় যাচাই করা হয়। বাংলাদেশে ই-কেওয়াইসি ব্যবস্থায় জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনের ও পেছনের অংশ স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক যাচাই ডিজিটাল আর্থিক সেবায় পরিচয় নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নগদের অ্যাপ-সংক্রান্ত তথ্যেও জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যানের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের সময় ব্যবহারকারীকে প্রথমে NID স্ক্যান করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। এরপর সেলফি ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের ধাপ সম্পন্ন করে চার সংখ্যার PIN সেট করার মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করা যায়।
অন্যদিকে, কোনো অ্যাকাউন্টে কেওয়াইসি পুনরায় জমা দেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারীকে অ্যাপে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করতে হতে পারে। অনলাইনে পাওয়া নগদ কেওয়াইসি-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে ‘কে ওয়াই সি পুনরায় জমা দিন’ ধরনের অপশন ব্যবহার করে পরিচয়পত্রের তথ্য পুনরায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া দেখা যায়। তবে কোন গ্রাহকের জন্য কখন পুনরায় কেওয়াইসি প্রয়োজন হবে, সেটি অ্যাকাউন্টের অবস্থা ও নগদের নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যানের সময় ব্যবহারকারীর উচিত মূল ও বৈধ পরিচয়পত্র ব্যবহার করা এবং ছবিটি পরিষ্কারভাবে ধারণ করা। পরিচয়পত্রের তথ্য অস্পষ্ট হলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে শনাক্ত করা না গেলে যাচাই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। তাই অ্যাপে নির্দেশনা দেওয়া হলে পর্যাপ্ত আলোতে NID-এর ছবি তোলা এবং তথ্য জমা দেওয়ার আগে প্রদর্শিত তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা। জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় তথ্য শনাক্তকরণ বা OCR প্রযুক্তিও ব্যবহার করা যেতে পারে। বাংলাদেশে ই-কেওয়াইসি নির্দেশিকায় NID-এর সামনের ও পেছনের অংশ স্ক্যান করে বাংলা ও ইংরেজি তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ রয়েছে।
তবে জাতীয় পরিচয়পত্র স্ক্যান করলেই অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অ্যাকাউন্ট নিরাপত্তার জন্য ব্যবহারকারীর নিজের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। নগদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে PIN, OTP বা অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতারকরা এসব তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকের ক্ষতি করতে পারে।
এ কারণে কেওয়াইসি আপডেট বা পরিচয় যাচাইয়ের নামে কেউ ফোন করে PIN কিংবা OTP চাইলে তা দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে অচেনা লিংকে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য বা পরিচয়পত্রের ছবি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজন হলে সরাসরি নগদ অ্যাপ বা নগদের অনুমোদিত গ্রাহকসেবা চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা নিরাপদ।
ব্যবহারকারীদের আরও মনে রাখতে হবে, অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিবর্তন বা পুনরায় কেওয়াইসি জমা দেওয়ার নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো কোনো নির্দেশনা অনুসরণ করার পরিবর্তে অ্যাপের বর্তমান নির্দেশনা দেখা উচিত। নগদের বর্তমান অ্যাপটি নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে এবং অ্যাপের বিবরণে আরও নতুন সুবিধা যুক্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ ও ব্যবহারকারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা একদিকে গ্রাহকের তথ্য ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে, অন্যদিকে অননুমোদিত ব্যবহার ও প্রতারণার ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থাই ব্যবহারকারীর সচেতনতার বিকল্প নয়।
সব মিলিয়ে, জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক যাচাই নগদ অ্যাপের ডিজিটাল কেওয়াইসি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রয়োজন হলে অ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী NID স্ক্যান করে তথ্য যাচাই ও হালনাগাদ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে PIN, OTP ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখা এবং শুধুমাত্র নগদের অনুমোদিত মাধ্যম ব্যবহার করাই অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি।
