ডেল স্টেইনকে টপকে ইতিহাসের পাতায় মিচেল স্টার্ক

reporter
Remon
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১১ পূর্বাহ্ণ
ডেল স্টেইনকে টপকে ইতিহাসের পাতায় মিচেল স্টার্ক

২২ বলেই ফাইফার, স্টার্কের তাণ্ডবে কাঁপল বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়ান পেসার মিচেল স্টার্ক এক বিধ্বংসী স্পেলে বাংলাদেশের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪২ মিনিটের মধ্যে, নিজের চতুর্থ ওভারেই তিনি পাঁচ উইকেট শিকার করে ফাইভ-উইকেট হল সম্পন্ন করেন। এর ফলে বাংলাদেশের ইনিংস মাত্র ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে। এই ঘটনার পাশাপাশি স্টার্ক টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইনকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

মূল চরিত্র অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্ক, যিনি মাত্র ২২ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দেন। ম্যাচের প্রথম বলেই তিনি ওপেনার শাদমান ইসলামকে আউট করেন। এরপর একে একে ফিরিয়ে দেন লিটন দাসসহ আরও কয়েকজন ব্যাটসম্যানকে। বাংলাদেশের পক্ষে ইনিংস সামলানোর দায়িত্বে দেখা যায় মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজকে, যারা উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করছিলেন। প্রতিপক্ষ দল বাংলাদেশ, যারা এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেছে।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট, শনিবার, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনের সকালে, খেলা শুরুর মাত্র ৪২ মিনিটের মাথায়।

ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকেই শহরের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় (হ্যারাপ পার্ক)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মাঠটি টেস্ট ক্রিকেট আয়োজনকারী অস্ট্রেলিয়ার দ্বাদশ ভেন্যু হিসেবে অভিষেক ঘটাচ্ছে। এই ভেন্যুতে পুরুষদের টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট পাওয়ার বিরল কীর্তিও গড়েন স্টার্ক—এর আগে মাত্র তিনটি ভেন্যুতে এমন ঘটনা ঘটেছিল।

এই স্পেলটি একাধিক কারণে ক্রিকেট বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রথমত, মাত্র ২২ বলে ফাইভ-ফার নেওয়া টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম পাঁচ উইকেট শিকারের তালিকায় অন্যতম—যদিও গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জ্যামাইকায় মাত্র ১৫ বলে ফাইভ-ফার নিয়ে নিজের গড়া রেকর্ডের ধারেকাছেও এটি পৌঁছাতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, এই উইকেটগুলোর মাধ্যমে স্টার্ক তার ক্যারিয়ারে একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করেন—টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকায় তিনি ডেল স্টেইনের (৪৩৯ উইকেট) সংগ্রহ ছাড়িয়ে যান, যা তাকে দ্রুতগতির বোলারদের মধ্যে পঞ্চম স্থানে নিয়ে যায়—জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও কোর্টনি ওয়ালশের ঠিক পেছনে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের জন্য এই শুরুটা বিপর্যয়কর, কারণ এত অল্প রানে এতগুলো উইকেট হারানো তাদের সম্পূর্ণ ইনিংসকে ঝুঁকিতে ফেলে দেয় এবং সিরিজে ভালো অবস্থানে ফেরার সম্ভাবনাকে কঠিন করে তোলে।

স্টার্ক তার চেনা সুইং ও গতি দিয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের একের পর এক পরাস্ত করেন। ম্যাচের প্রথম ডেলিভারিতেই শাদমান ইসলামকে আউট করে শুরু করেন তিনি। এরপর একটি রিভিউয়ের মাধ্যমে লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান, যেখানে বল-ট্র্যাকিং প্রযুক্তিতে দেখা যায় বলটি লেগ স্টাম্পে সরাসরি আঘাত হানছিল। মাঝে একটি সহজ ক্যাচ ফসকে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে, তবে তাতে স্টার্কের গতি থামেনি। চার ওভারের মধ্যেই তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪-৩-৪-৫, অর্থাৎ চার ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে পাঁচ উইকেট। দিনের বাকি অংশে হাসান মাহমুদ ও মেহেদী উইকেটে টিকে থেকে দলকে আরও বিপর্যয় থেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যান।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page