প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ না দই কোনটি রাখা বেশি উপকারী?

লাইফস্টাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ না দই কোনটি রাখা বেশি উপকারী?

দুধ ও দই দুটিই পুষ্টিকর, তবে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিকটি বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

দুধ ও দই দুটিই পুষ্টিকর খাবার এবং সুস্থ খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই দুটি খাবারের যেকোনো একটি রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিদরা। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, দুধ বেশি উপকারী নাকি দই?

এর উত্তর সবার জন্য এক নয়। কারণ একজন মানুষের বয়স, হজমশক্তি, শারীরিক অবস্থা এবং পুষ্টির চাহিদার ওপর নির্ভর করে কোনটি বেশি উপকারী হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুটিরই আলাদা আলাদা স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দই দুধের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

দুধ কেন সুপারফুড হিসেবে পরিচিত?

দুধকে দীর্ঘদিন ধরেই একটি সুষম খাদ্য বা সুপারফুড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ভিটামিন বি১২, পটাশিয়াম এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আরও অনেক পুষ্টি উপাদান।

ভারতের পুষ্টিবিদ বিশ্বজিৎ দাস জানান, শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, হাড় ও দাঁত মজবুত রাখা এবং পেশির বিকাশে দুধের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ শরীরে শক্তির জোগান দিতে এবং পেশির কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কারা দুধ খেতে সমস্যায় পড়েন?

সবাই দুধ সমানভাবে হজম করতে পারেন না। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের শরীরে ল্যাকটোজ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমের ঘাটতি থাকে। ফলে দুধ খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম)-এ আক্রান্ত অনেকের ক্ষেত্রেও দুধ হজমে অস্বস্তি হতে পারে।

দই কেন অনেকের জন্য ভালো বিকল্প?

দই মূলত দুধ থেকেই তৈরি হয়। তবে এটি গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় দুধে থাকা ল্যাকটোজের একটি অংশ ভেঙে যায় এবং তৈরি হয় প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া।

এই উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। ফলে হজম ভালো হয় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যও উন্নত হতে পারে।

হজমের দিক থেকে কোনটি এগিয়ে?

হজমের ক্ষেত্রে দই সাধারণত দুধের চেয়ে এগিয়ে। গাঁজন প্রক্রিয়ার কারণে দইয়ের প্রোটিন তুলনামূলকভাবে সহজে ভেঙে যায়। তাই এটি পাকস্থলীতে দ্রুত হজম হয়। যাদের দুধ খেলে অস্বস্তি হয়, তারা অনেক ক্ষেত্রেই দই সহজে খেতে পারেন।

ক্যালসিয়াম শোষণে কোনটি ভালো?

দুধ ও দই দুটিতেই ক্যালসিয়াম রয়েছে। তবে গাঁজন প্রক্রিয়ার কারণে অনেক মানুষের শরীর দই থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস তুলনামূলক সহজে শোষণ করতে পারে। এ কারণে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় দইও একটি ভালো খাদ্য।

গরমের সময় কোনটি বেশি উপকারী?

গরমের দিনে দই অনেকের জন্য আরামদায়ক খাবার হতে পারে। ঠান্ডা দই শরীরকে সতেজ অনুভব করায় এবং পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টি গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া টক দই দিয়ে তৈরি লাচ্ছি বা দই-ভিত্তিক খাবার গরমের সময় জনপ্রিয় স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

দই খাওয়ার সময় যে ভুল করবেন না

অনেকেই বাজারের মিষ্টি দই বা অতিরিক্ত চিনি মেশানো ফ্লেভারড দই খান। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনি ছাড়া টক দই বা কম চিনি যুক্ত দই বেছে নেওয়াই ভালো। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে অতিরিক্ত চিনি মেশানো দই এড়িয়ে চলা উচিত।

দুধ নাকি দই কোনটি বেছে নেবেন?

যদি আপনার দুধ হজমে কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে দুধ একটি চমৎকার পুষ্টিকর খাবার। অন্যদিকে যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স, আইবিএস বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দইকে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

আরও পড়ুন-ডায়াবেটিস থাকলেও কি আলু খাওয়া যাবে? জেনে নিন সঠিক নিয়ম

একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ ও দই দুটিই পরিমিত পরিমাণে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। দুধ বা দইয়ের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, মাছ, ডিম, বাদাম এবং পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবারও প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।

যাদের দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা, ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতা রয়েছে, তারা নিয়মিত দুধ বা দই খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিলে ভালো।

উপসংহার

দুধ ও দই দুটিই পুষ্টিকর এবং শরীরের জন্য উপকারী। তবে হজমের সুবিধা, প্রোবায়োটিকের উপস্থিতি এবং ক্যালসিয়াম শোষণের দিক থেকে দই কিছুটা এগিয়ে বলে মনে করেন অনেক পুষ্টিবিদ। আবার শিশুদের বৃদ্ধি, পেশি ও হাড়ের জন্য দুধের গুরুত্বও অনেক। তাই কোনটি খাবেন, তা নির্ভর করবে আপনার শরীরের চাহিদা, হজমক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন