‘ইচ্ছা থাকলেও পর্দা করা সম্ভব না’, মেঘনা আলমের আক্ষেপ
পুরোনো ছবি নিয়ে মেঘনা আলমের ক্ষোভ
ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনায় থাকা মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম এবার গণমাধ্যমে পুরোনো ছবি প্রকাশ এবং নিজের পোশাকের পছন্দ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রায় দুই বছর ধরে মাথায় কাপড় দিয়ে চলাফেরা করলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার আগের সময়ের পোশাকের ছবি বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে একজন নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ, স্বাচ্ছন্দ্য ও পর্দার সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি মাথায় কাপড় দিয়ে থাকেন। কিন্তু গণমাধ্যমে তার আগের সময়ের ‘ক্লিভেজ শো করা’ ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, একজন নারীর পছন্দ, স্বাচ্ছন্দ্য ও শালীনতার চেয়েও যেন ভিউ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেঘনা আলমের দাবি, একজন নারী নিজের জীবনযাপন ও পোশাকের ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আনতে পারেন। কিন্তু পুরোনো ছবি ব্যবহার করে তার বর্তমান অবস্থানকে উপস্থাপন করা হলে সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয় না। এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পর্দা করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ মেঘনা আলমের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন, আবার কেউ তার অবস্থানের সঙ্গে ভিন্নমতও জানিয়েছেন। তবে সমালোচনার মধ্যেও নিজের পোশাক, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং জীবনযাপন নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
এর আগে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া আরেকটি পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন মেঘনা আলম। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াননি তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় পোশাক বা লেবাস অনুসরণ না করার কারণে তাকে বিভিন্ন ধরনের অপবাদ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।
মেঘনা আলম বলেন, শুধু পোশাক কিংবা ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ না করার কারণে একজন নারীকে নিয়ে সমাজে নানা ধরনের অপবাদ ছড়ানো হয়। তার মতে, একজন নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ, জীবনযাপন এবং নিজের শরীর ও পোশাক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করা প্রয়োজন।
নিজের বক্তব্যে সমাজের দ্বিমুখী মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মেঘনা আলম। তিনি অভিযোগ করেন, নৈতিকতা ও ধর্মের কথা বলা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর কিংবা কোনো অডিও ভাইরাল হওয়ার পরও তাদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। অথচ পোশাক বা ব্যক্তিগত জীবনযাপনের কারণে নারীদের সহজেই নানা ধরনের অপবাদের মুখোমুখি হতে হয়।
এ ধরনের সামাজিক বাস্তবতার সমালোচনা করে মেঘনা আলম প্রশ্ন তোলেন, ‘এ কেমন দুনিয়া?’ তার বক্তব্যে মূলত নারীর পোশাক, ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক পরিচয় নিয়ে প্রচলিত বিচার-বিশ্লেষণের ধরন নিয়েই আপত্তি উঠে এসেছে।
গণমাধ্যমে নিজের পুরোনো ছবি ব্যবহারের বিষয়টিও তার সাম্প্রতিক বক্তব্যের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। মেঘনা আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে অতীতের ছবি মিলিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হলে পাঠকের সামনে তার সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা তৈরি হতে পারে। এ কারণে একজন ব্যক্তির বর্তমান অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশনের আহ্বানও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দুটি পোস্টে মেঘনা আলম নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও জীবনযাপন নিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। একই সঙ্গে নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, পোশাকের সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দ্বৈত মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার এসব বক্তব্যকে ঘিরেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা ও মতামত।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
