মালয়েশিয়ার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসায় কড়াকড়ি, বাংলাদেশিদের জন্য বদলে গেল নিয়ম
সাধারণ পর্যটনের ক্ষেত্রে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ সীমিত করেছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিতে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ পর্যটন ও সামাজিক সফরের ক্ষেত্রে একাধিকবার প্রবেশের ভিসার সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সংশোধিত নীতি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (Multiple Entry Visa) আর সব ধরনের ভ্রমণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে না। ২ সেপ্টেম্বর দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য ভিসা প্রয়োজন হওয়ায় নতুন এই নীতির আওতায় তারাও পড়ছেন। ফলে এখন থেকে ভ্রমণের উদ্দেশ্য বিবেচনা করেই মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার আবেদন করতে হবে।
চার ধরনের ভ্রমণে মিলবে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা
সংশোধিত নীতিতে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ মূলত চার ধরনের ভ্রমণের জন্য রাখা হয়েছে। এগুলো হলো—
- ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ পর্যটন ।
- ব্যবসায়িক কার্যক্রম ।
- চিকিৎসা ।
- বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটন ।
অর্থাৎ কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ব্যবসার প্রয়োজনে নিয়মিত মালয়েশিয়ায় যাতায়াত করলে, চিকিৎসার জন্য একাধিকবার দেশটিতে প্রবেশ করতে হলে, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ ভ্রমণে অংশ নিলে কিংবা বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটনের উদ্দেশ্যে গেলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার আবেদন করতে পারবেন।
সাধারণ পর্যটকদের জন্য বাড়বে ভোগান্তি
নতুন নীতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ পর্যটকদের ওপর। আগে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে একাধিকবার মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ ছিল।
এখন শুধু বেড়ানো, ছুটি কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা সামাজিক সফরের মতো উদ্দেশ্যে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
ফলে বাংলাদেশ থেকে কোনো পর্যটক মালয়েশিয়ায় ভ্রমণের পর আবার সাধারণ পর্যটন উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে নতুন করে ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণ
মালয়েশিয়ার নতুন সিদ্ধান্তে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসাকে সাধারণ পর্যটন সুবিধা থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে দেশটি ব্যবসা, চিকিৎসা, ক্রুজ ও বিশেষ পর্যটন খাতকে গুরুত্ব দিতে চাইছে। এখন আবেদনকারীর নাগরিকত্বের পাশাপাশি ভ্রমণের উদ্দেশ্যও ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশিদের জন্য কী পরিবর্তন আসছে
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়মের অর্থ হলো, শুধু বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই আগের মতো মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ পাওয়া যাবে না।
আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য নির্ধারিত চারটি শ্রেণির যেকোনো একটির সঙ্গে মিল থাকতে হবে। অন্যথায় সাধারণ পর্যটনের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার আবেদন করতে হবে।
তবে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব নেই। ওয়ার্ক পারমিট, কর্মসংস্থানসংক্রান্ত ভিজিট পাস বা চাকরিভিত্তিক ভিসা আলাদা ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হয়।
প্রযুক্তিনির্ভর অভিবাসন ব্যবস্থার দিকে মালয়েশিয়া
ভিসা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পাশাপাশি মালয়েশিয়া তাদের অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।
নতুন ডিজিটাল অভিবাসন ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেও ভিসা ব্যবস্থায় বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ার নতুন মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা নীতিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। এখন সাধারণ বেড়ানোর ক্ষেত্রে আগের মতো সহজে একাধিকবার প্রবেশের ভিসা পাওয়া যাবে না। তবে ব্যবসা, চিকিৎসা, ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ কিংবা বিয়েকেন্দ্রিক পর্যটনের ক্ষেত্রে শর্ত পূরণ করলে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার সুযোগ থাকবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
