প্যারোলে মুক্তি পেয়ে গ্যাংস্টার প্রেমিকাকে করলেন বিয়ে, পাহারায় পুলিশ
১২ ঘণ্টার কাস্টডি প্যারোলে এসে বিয়ে করেন হরিয়ানার গ্যাংস্টার মাইনপাল ধিল্লা।
মণ্ডপে তখন পুরোহিতের ব্যস্ততা তুঙ্গে। দ্রুত মন্ত্র পড়ছিলেন তিনি, অগ্নিকুণ্ডে একের পর এক আহুতি পড়ছিল। পাশে বসে তিন সন্তানকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন কনে মেটা। কান্না থামছিল না শিশুদের। তাই এক সন্তানকে শান্ত রাখতে মোবাইল ফোনে ইউটিউব চালিয়ে দিতে হচ্ছিল তাকে। যজ্ঞের ধোঁয়ায় চোখ জ্বলছিল, তবু বারবার সন্তানদের দিকে তাকানোর পর আবার ফিরতে হচ্ছিল বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায়।
মণ্ডপের আরেক পাশে বসেছিলেন বর মাইনপাল ধিল্লা। দুই হাত বড় একটি কাপড়ে ঢাকা। ধারণা করা হচ্ছিল, হাতকড়াটি যেন দেখা না যায়, সে কারণেই এমন ব্যবস্থা। কিন্তু কাপড়ের ফাঁক দিয়ে মাঝেমধ্যে ধাতব হাতকড়ার ঝিলিক দেখা যাচ্ছিল। কেউ খেয়াল করলেই দ্রুত সেটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছিল।
ভারতের হরিয়ানার এই গ্যাংস্টারের বিয়ের আয়োজন তাই ছিল অন্যরকম। মণ্ডপ ঘিরে ছিলেন ভারী অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য। বরপক্ষের নারী আত্মীয়দের সঙ্গে নারী পুলিশ সদস্যদের কথাবার্তাও চলছিল। এমনকি কনের লেহেঙ্গা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। তবে বিয়ের এই স্বাভাবিক পরিবেশের আড়ালেই ছিল কঠোর নিরাপত্তা ও সময়ের চাপ।
৫০ বছর বয়সী মাইনপাল ধিল্লাকে তাঁর ৩৭ বছর বয়সী কম্বোডিয়ান প্রেমিকা মেটাকে বিয়ে করার জন্য মাত্র ১২ ঘণ্টার কাস্টডি প্যারোল দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাঁকে কারাগারের বাইরে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এই সময়ের মধ্যেই ঝাজ্জারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়াই ছিল পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
মেটা তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে ঝাজ্জারে এসেছিলেন। পরিবারের অন্য কোনো সদস্য তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। ফলে বিয়ের পুরো আয়োজনেই সন্তানদের সামলানোর দায়িত্বও তাঁকেই পালন করতে হয়েছে।
মাইনপাল ধিল্লার অপরাধজীবনের শুরু বাদলি গ্রাম থেকে। তিনি একসময় সেখানে ট্রাক্টর মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। ২০০০ সালে গ্রামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর চাচা হেমচন্দ্র নিহত হন। এরপর পুলিশের নজরে আসেন ধিল্লা। পরবর্তী সময়ে তাঁর মামা ওমপ্রকাশও নিহত হন। এরপর ধীরে ধীরে এলাকার কুখ্যাত অপরাধী হিসেবে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে।
বছরের পর বছর ধরে আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও অবৈধ অস্ত্রসহ অন্তত ২২টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে তিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
কারাগারে থাকার কারণে বিয়ের জন্যও তাঁকে সাধারণ বন্দিদের মতো নয়, বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে বাইরে আসতে হয়েছে। প্যারোলের সময়সীমাও ছিল নির্দিষ্ট। ফলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন চললেও মণ্ডপে উপস্থিত সবার মনে ছিল একটি বিষয়—রাত ৮টার আগেই বরকে আবার কারাগারে ফিরতে হবে।
বাদলি গ্রামের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় মানুষজন বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে মণ্ডপের চারপাশে জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের সামনে একদিকে চলছিল বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা, অন্যদিকে বন্দি বরকে ঘিরে ছিল পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা। হাতকড়ার আভাস, সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারাগারে ফেরার বাধ্যবাধকতা—সব মিলিয়ে বিয়েটি হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন।
একজন গ্যাংস্টারের জীবনে বিয়ের দিনটি সাধারণত আনন্দের হওয়ার কথা। কিন্তু মাইনপাল ধিল্লার ক্ষেত্রে সেই আনন্দের মাঝেও ছিল কারাগারের বাস্তবতা। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাঁর গন্তব্য ছিল আবারও সেই কারাগার—যেখান থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য তিনি এসেছিলেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
