শার্শায় বাওড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ গুলিতে আহত ৫, এলাকায় উত্তেজনা

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
শার্শায় বাওড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ গুলিতে আহত ৫, এলাকায় উত্তেজনা

শার্শায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন পাঁচজন।

যশোরের শার্শা উপজেলায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার ও কন্যাদহ বাওড় নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিতে আহত হয়ে পাঁচজন যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কন্যাদহ গ্রামের গাইনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, শার্শা উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী এবং উপজেলা যুবদলের সদ্য অব্যাহতি পাওয়া যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম ওরফে গোল্ড শহীদের নেতৃত্বে একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রেজাউল ইসলাম গাইনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তাদের দাবি, হামলাকারীরা ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ১০ থেকে ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবু গাইন ও আনারুলের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

পরে রেজাউল ইসলাম গাইনের পক্ষের লোকজন প্রতিরোধের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা শর্টগানের গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে শাহ আলম, মিঠু, আকাশ, শাকিল ও আবদুল্লাহ নামে পাঁচজন শর্টগানের ছররা গুলিতে আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা বিএনপি নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তির অনুসারী হওয়ায় তাদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কন্যাদহ বাওড় ও এলাকার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপি নেতা রেজাউল ইসলাম গাইনের সঙ্গে শহিদ আলী ও শহীদুল ইসলাম ওরফে গোল্ড শহীদের অনুসারীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে এ বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মশিয়ার মোড়ল (৫৬) নামে এক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে শার্শা উপজেলা বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শহিদ আলী বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি এলাকায় ছিলেন না। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, শাহ আলম ও হাসানুররা বুধবার বাওড়ের জেলেদের আটকে রেখে হয়রানি ও মারধর করেছেন। ওই ঘটনা আড়াল করতেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শহীদুল ইসলাম ওরফে গোল্ড শহীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের মধ্যে যাতে নতুন করে কোনো ধরনের উত্তেজনা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page