দেশে নিজস্ব ফ্ল্যাট বা বাড়ির স্বপ্ন দেখা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সুখবর আসতে পারে। আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালুর দাবিও তুলেছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও সহজ হবে।
আরও পড়ুন-ব্র্যাক ব্যাংকে চালু গুগল পে, প্রথম লেনদেনে মিলবে সর্বোচ্চ ২০% ক্যাশব্যাক
রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় আবাসন খাতের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে আলোচনা করে। বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সংকট এবং সাধারণ মানুষের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের ব্যবস্থা করা গেলে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। তিনি মনে করেন, আবাসন খাতকে সহায়তা করা হলে শুধু ফ্ল্যাট বিক্রি বাড়বে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে পরিকল্পিত নগরায়ন জরুরি। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ও পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে স্বল্প সুদের গৃহঋণ সুবিধা সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। সহজ ঋণ সুবিধা পেলে মানুষ রাজধানীর বাইরে বসবাসে আরও আগ্রহী হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে মতামত তুলে ধরেন। তারা দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংকটকে আবাসন খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পায়নের সঙ্গে আবাসন খাতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতে আবাসন ঋণ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ কারণে অন্যান্য অনেক খাতের ঋণের তুলনায় হাউজিং ঋণের সুদের হারও অপেক্ষাকৃত কম থাকে।
গভর্নর আরও বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম। তবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ আরও বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে, যা আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদানের সুযোগ বাড়াবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে আবাসন ঋণের অন্যতম বড় সমস্যা হলো দীর্ঘমেয়াদি ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী হলেও উচ্চ কিস্তি ও সুদের চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজ শর্তে গৃহঋণ চালু হলে শুধু আবাসন ব্যবসাই নয়, এর সঙ্গে জড়িত শতাধিক শিল্প ও সেবা খাতও উপকৃত হবে। নির্মাণসামগ্রী, সিরামিক, রড, সিমেন্ট, ফার্নিচার, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন খাতে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রিহ্যাবের এই আলোচনা থেকে আবাসন খাতের দীর্ঘদিনের কিছু সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ও স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ বাস্তবায়িত হলে মধ্যবিত্তের নিজস্ব ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
বৈঠক শেষে দেশের আবাসন খাতের টেকসই উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ।
সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক
আরও পড়ুন-ব্র্যাক ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা (সুবিধা ও আবেদন)










