বাংলাদেশের প্রযুক্তি বাজারে নতুন করে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচ এবং অডিও ডিভাইস নিয়ে নতুন পরিকল্পনা সামনে এনে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা শুধু একটি ডিভাইস বিক্রি নয়, বরং পুরো একটি স্মার্ট প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে চায়।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে ফিরছে হুয়াওয়ে, স্মার্টফোন থেকে ল্যাপটপ আনছে একগুচ্ছ নতুন পণ্য
সম্প্রতি আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে হুয়াওয়ে তাদের একাধিক নতুন প্রিমিয়াম ডিভাইস প্রদর্শন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন Mate 80 Pro, ফোল্ডেবল স্মার্টফোন Mate X7, MatePad 11.5 ট্যাবলেট, Watch Fit 5 সিরিজের স্মার্টওয়াচ এবং FreeClip 2 ওয়্যারলেস ইয়ারবাড।
প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হুয়াওয়ের নতুন ফ্ল্যাগশিপ Mate 80 Pro। শক্তিশালী হার্ডওয়্যার, উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের কারণে ডিভাইসটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি Mate X7 ফোল্ডেবল স্মার্টফোনও দর্শকদের বিশেষ নজর কাড়ে। ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ডিভাইসটি।
স্মার্টফোনের পাশাপাশি হুয়াওয়ে তাদের MatePad 11.5 ট্যাবলেটও প্রদর্শন করেছে। শিক্ষা, অফিসের কাজ এবং বিনোদনের জন্য উপযোগী এই ডিভাইসটিকে কোম্পানি একটি বহুমুখী সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, ফিটনেস ট্র্যাকিং এবং স্মার্ট কানেক্টিভিটি সুবিধা নিয়ে এসেছে Watch Fit 5 সিরিজের নতুন স্মার্টওয়াচ।
অডিও পণ্যের তালিকায় ছিল FreeClip 2 ওয়্যারলেস ইয়ারবাড। আধুনিক ডিজাইন, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং উন্নত অডিও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্য রয়েছে এই ডিভাইসটির।
হুয়াওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বর্তমান কৌশলের মূল লক্ষ্য একটি সমন্বিত ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। অর্থাৎ স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, স্মার্টওয়াচ এবং অডিও ডিভাইস পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে ব্যবহারকারীদের আরও সহজ ও স্মার্ট অভিজ্ঞতা দেবে। একটি ডিভাইসে শুরু করা কাজ অন্য ডিভাইসে সহজেই চালিয়ে নেওয়ার মতো সুবিধাও এই ইকোসিস্টেমের অংশ হবে।
বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে হুয়াওয়ে ডিএক্স গ্রুপকে তাদের নতুন পরিবেশক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে বিক্রয় ও বিতরণ নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
ডিএক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান কানন বলেন, উদ্ভাবন ও মানসম্পন্ন প্রযুক্তিপণ্যের জন্য হুয়াওয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বাংলাদেশের ভোক্তাদের কাছে এসব আধুনিক প্রযুক্তি আরও সহজে পৌঁছে দিতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে সক্রিয় থাকলেও এখন বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় হুয়াওয়ে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম স্মার্টফোন, ফোল্ডেবল ডিভাইস এবং স্মার্ট ইকোসিস্টেমের বাজারে নতুন করে প্রতিযোগিতায় নামার কৌশল হিসেবেই এই পদক্ষেপ দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, প্রযুক্তি–বিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নতুন ডিভাইসগুলো সরাসরি ব্যবহার করে দেখার সুযোগ পান এবং হুয়াওয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা নেন।
সব মিলিয়ে নতুন ডিভাইস, বিস্তৃত ইকোসিস্টেম এবং শক্তিশালী বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রযুক্তি বাজারে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে হুয়াওয়ে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি কত দ্রুত দেশের প্রযুক্তিপ্রেমী ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করতে পারে।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে হুয়াওয়ের লুনা ২০০০ সোলার এনার্জি স্টোরেজ শিল্প খাতে নতুন সমাধান









