এআই ব্যবহারে ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা হা-মীম গ্রুপের

হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির জনবল কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে হা-মীম গ্রুপে প্রায় ৭৫ হাজার কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে ১০ হাজার কর্মী কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (৭ জুন) ‘একাত্তর বিজনেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কে আজাদ এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্ব দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ সেই গতিতে এগোতে পারছে না।

আরও পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমেছে ৪১ শতাংশ

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা পণ্যের দাম বাড়াবেন না। ফলে উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হচ্ছে। এ কারণে এআই ব্যবহার করে জনবল কমানোর প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে।

এ কে আজাদের ভাষ্য, “আমার ৭৫ হাজার কর্মী। সেখান থেকে আমার টার্গেট ১০ হাজার কর্মী কমাব।” তবে একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসব দক্ষ কর্মী চাকরি হারালে তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে।

তিনি বলেন, সরকারকে এ বিষয়ে দূরদর্শী পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ বিভিন্ন শিল্পখাতে ব্যয় বাড়লেও অনেক প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম সমন্বয় করতে পারছে না। ফলে অনেক কারখানা ধীরে ধীরে সংকটে পড়ছে।

ব্যবসায়ী এই নেতা জানান, শুধু তৈরি পোশাক শিল্প নয়, অন্যান্য উৎপাদনমুখী খাতেও চাপ বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে না পারলে শিল্পখাতের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ কে আজাদ আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের কর্মসংস্থান লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করতে হবে। এজন্য ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমানো জরুরি।

তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ সুদে শিল্পকারখানা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে ঋণের সুদের হার কমানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, রপ্তানিমুখী শিল্পের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে শক্তিশালী করা গেলে অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারের বিস্তারের কারণে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দক্ষতা অর্জন এবং কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তথ্যসূত্র: NEWS24

আরও পড়ুন- ৭৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগে অনিশ্চয়তা, আটকে আছে ৯ম গণবিজ্ঞপ্তি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

শিক্ষা ও চাকরি বিষয়ক প্রতিবেদক

আমি শিক্ষা, চাকরি, ক্যারিয়ার ও সমসাময়িক উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন লিখি। তথ্যভিত্তিক ও পাঠকবান্ধব কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রার্থী এবং সচেতন পাঠকদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষা নীতি, ভর্তি, পরীক্ষা, ফলাফল, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সরকারি-বেসরকারি চাকরির আপডেট ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সংবাদ বিশ্লেষণধর্মীভাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। সহজ ভাষা, নির্ভুল তথ্য এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে আমি সবসময় গুরুত্ব দিই। বর্তমান প্রজন্মের জন্য কার্যকর ও সময়োপযোগী তথ্য পৌঁছে দিতে আমি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now