দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি ও খুচরা— উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতে আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং শিল্প খাতের গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যয়ে প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-প্রিপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ ও মিটার ভাড়া বাতিল হতে পারে জানুন বিস্তারিত
বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। দীর্ঘ আলোচনার পর কমিশন এই সিদ্ধান্ত জানায়, যা ইতোমধ্যে সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহক পর্যায়েও গড়ে উল্লেখযোগ্য হারে মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর ক্রয়মূল্য বাড়ার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব গ্রাহকের মাসিক বিলেও পড়বে।
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য আগের তুলনায় বৃদ্ধি করে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে খুচরা পর্যায়েও ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে যারা নিয়মিত বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের মাসিক ব্যয় আগের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে।
বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণের আগে গত ২০ ও ২১ মে দুই দিনব্যাপী গণশুনানির আয়োজন করা হয়। সেখানে দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি তাদের পরিচালন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং আর্থিক চাপের বিষয় তুলে ধরে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। বিভিন্ন কোম্পানি ইউনিটপ্রতি ভিন্ন ভিন্ন হারে দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় সমন্বয় এবং বিতরণ ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় মোকাবিলার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন আগে থেকেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল।
বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি শুধু গ্রাহকের বিলেই প্রভাব ফেলে না, বরং উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যেও পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিদ্যুতের ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব বাজার ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ব্যয় এবং আমদানি-নির্ভর জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও নতুন সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। এরপর নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির এই ঘোষণা এলো। ফলে এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে আবারও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর একজন গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে তার মাসিক ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট ট্যারিফ শ্রেণির ওপর। তবে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে অধিকাংশ গ্রাহকের বিল আগের তুলনায় বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে নতুন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক গ্রাহক তাদের মাসিক বিদ্যুৎ ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক বাস্তবতার বিষয়টিও সামনে আনছেন। এখন নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর এর বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, সেটিই দেখার বিষয়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)










