শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা চালু, হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠানো বাধ্যতামূলক
শিক্ষকদের ডিজিটাল হাজিরা চালু, হোয়াটসঅ্যাপে ছবি পাঠানো বাধ্যতামূলক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। সোমবার (১৫ জুন) থেকে সারা দেশে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য এবং হাজিরা খাতার ছবি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতে হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রতিদিন উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠাতে হবে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কার্যক্রমটি সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শুরুতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও ধীরে ধীরে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের প্রায় চার লাখ শিক্ষকের উপস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে উপজেলা, থানা ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটের মধ্যে কতজন শিক্ষক উপস্থিত এবং কতজন অনুপস্থিত, সেই তথ্য পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে হাজিরা খাতার ছবিও আপলোড করতে হবে।
নতুন প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয় থেকে তথ্য যাবে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে। পরে তা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং আঞ্চলিক উপ-পরিচালকের মাধ্যমে অধিদপ্তরে পৌঁছাবে। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকদের গুগল শিটেও একই তথ্য আপডেট করতে হবে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে খুব দ্রুত শিক্ষকদের উপস্থিতির তথ্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শীর্ষ কর্মকর্তারা সারা দেশের বিদ্যালয়গুলোর উপস্থিতির চিত্র দেখতে পারবেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মতে, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি বা দেরিতে বিদ্যালয়ে আসার অভিযোগ পাওয়া যায়। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বিষয় আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা বা প্রধান শিক্ষক ভুল তথ্য দিলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই নতুন এই ব্যবস্থাকে গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল হাজিরা চালুর ফলে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বাড়বে এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আপনার মতামত লিখুন
Array