সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (সমমান) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ জুন) পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে ছয়জন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করেছেন এবং দুজন ভুয়া পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন- এআই ব্যবহারে ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা হা-মীম গ্রুপের
পিএসসি জানিয়েছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর। ওই পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘পরীক্ষায় অপরাধমূলক আচরণের জন্য শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নীতিমালা, ২০০০’-এর আওতায় অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। শাস্তির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সবার পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকজনকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত সব নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে তারা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবেন।
পিএসসি আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে চলবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, প্রক্সি পরীক্ষার্থী ও প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পিএসসি বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও যাচাই কার্যক্রম জোরদার করেছে।
চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরীক্ষায় অনিয়ম বা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকলে শুধু ফল বাতিল নয়, ভবিষ্যতের চাকরির সুযোগও হারাতে হতে পারে। পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখিও হতে হতে পারে অভিযুক্তদের।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
আরও পড়ুন- মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমেছে ৪১ শতাংশ










