ক্রেডিট কার্ডে টাকা তোলার নতুন নিয়ম জেনে নিন
ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তোলার নিয়ম, সীমা ও খরচ সম্পর্কে জেনে নিন।
ক্রেডিট কার্ড সাধারণত কেনাকাটা, অনলাইন পেমেন্ট ও বিভিন্ন ধরনের বিল পরিশোধের জন্য ব্যবহার করা হলেও জরুরি প্রয়োজনে কার্ড থেকে নগদ টাকাও তোলা যায়। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ টাকা তোলার এই সুবিধাকে সাধারণত ‘ক্যাশ অ্যাডভান্স’ বলা হয়। তবে এটি সাধারণ ATM থেকে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকা তোলার মতো নয়। ক্রেডিট কার্ড থেকে নগদ টাকা তুললে সেটি কার্ডের বকেয়া হিসেবে যুক্ত হয় এবং এর সঙ্গে নির্ধারিত ফি ও সুদ প্রযোজ্য হতে পারে। তাই টাকা তোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ক্যাশ অ্যাডভান্সের নিয়ম, সীমা, ফি ও সুদের হার সম্পর্কে জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত প্রুডেনশিয়াল গাইডলাইনে ক্যাশ অ্যাডভান্সের সীমা মোট ক্রেডিট লিমিটের ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কার্ডের মোট ক্রেডিট লিমিট ১ লাখ টাকা হলে সাধারণ নিয়মে ক্যাশ অ্যাডভান্সের সীমা ৫০ হাজার টাকা হতে পারে। তবে বাস্তবে ব্যাংক ও কার্ডভেদে নির্ধারিত ATM, দৈনিক লেনদেনের সীমা বা অন্যান্য অভ্যন্তরীণ শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। ফলে নিজের কার্ডে সর্বোচ্চ কত টাকা নগদ তোলা যাবে, তা কার্ডের শর্ত বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তোলার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হলো ATM। এ ক্ষেত্রে কার্ডধারীকে এমন ATM ব্যবহার করতে হয়, যেখানে তার কার্ডের নেটওয়ার্ক সমর্থন করে। ATM-এ কার্ড প্রবেশ করিয়ে PIN দেওয়ার পর Cash Withdrawal বা Cash Advance ধরনের অপশন নির্বাচন করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা তোলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে প্রতিটি ব্যাংক বা কার্ডের ATM সুবিধা এক রকম নয়। কোনো কার্ড নির্দিষ্ট ব্যাংকের ATM-এ সহজে ব্যবহার করা গেলেও অন্য নেটওয়ার্কের ATM ব্যবহারে অতিরিক্ত চার্জ থাকতে পারে। তাই টাকা তোলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ATM ও ক্যাশ অ্যাডভান্সের শর্ত জানা জরুরি।
ক্রেডিট কার্ড থেকে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর খরচ। সাধারণ কেনাকাটার তুলনায় ক্যাশ অ্যাডভান্সে আলাদা ফি প্রযোজ্য হতে পারে। অনেক ব্যাংক নির্দিষ্ট টাকা অথবা উত্তোলিত অর্থের নির্দিষ্ট শতাংশ—যেটি প্রযোজ্য—হিসেবে ক্যাশ অ্যাডভান্স ফি নিয়ে থাকে। উদাহরণ হিসেবে, সিটি ব্যাংকের ২০২৫ সালে প্রকাশিত American Express ক্রেডিট কার্ডের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন কার্ডে স্থানীয় ক্যাশ অ্যাডভান্স ফি ১৫০ টাকা অথবা ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে যেটি প্রযোজ্য, তা নির্ধারিত ছিল। একই নথিতে কার্ডভেদে আন্তর্জাতিক ক্যাশ অ্যাডভান্সের জন্য আলাদা ফি উল্লেখ রয়েছে। তবে ব্যাংক ও কার্ডভেদে এই ফি পরিবর্তিত হতে পারে।
ক্রেডিট কার্ড থেকে নগদ টাকা তোলার ক্ষেত্রে সুদের বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড নির্দেশিকায় সুদ দৈনিক গড় বকেয়ার ভিত্তিতে হিসাব করার এবং লেনদেনের তারিখ থেকে মাসিকভাবে সুদ প্রয়োগের বিধান রয়েছে। অর্থাৎ ক্যাশ অ্যাডভান্স নেওয়ার পর সেটি পরিশোধ না করা পর্যন্ত সুদ জমতে পারে। এ কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ক্রেডিট কার্ড থেকে নগদ টাকা তুলে দীর্ঘ সময় বকেয়া রাখা ব্যয়বহুল হতে পারে।
সাধারণ ক্রেডিট কার্ড কেনাকাটার ক্ষেত্রে কিছু ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে সুদমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে। কিন্তু ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে এই সুবিধা একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকায় ক্রেডিট কার্ডের জন্য ন্যূনতম ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের interest-free period-এর কথা বলা হলেও ক্যাশ অ্যাডভান্সের সুদ লেনদেনের তারিখ থেকেই হিসাব করার বিধান রয়েছে। তাই নগদ টাকা তোলার আগে সুদের হিসাব কীভাবে হবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শর্ত থেকে দেখে নেওয়া জরুরি।
ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তোলার আগে কার্ডের অব্যবহৃত ক্রেডিট লিমিট, ক্যাশ অ্যাডভান্স সীমা, ATM চার্জ, ক্যাশ অ্যাডভান্স ফি, সুদের হার এবং পরিশোধের শেষ তারিখ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ATM থেকে টাকা তোলার পর লেনদেনটি কার্ডের স্টেটমেন্টে সঠিকভাবে এসেছে কি না, সেটিও যাচাই করা ভালো। কোনো লেনদেন নিয়ে সন্দেহ থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন একটি প্রচলিত সুবিধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানেও ক্রেডিট কার্ডের দেশীয় ব্যবহারের মধ্যে Cash Withdrawal আলাদা একটি লেনদেনের ধরন হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রায় ৬ শতাংশ ছিল Cash Withdrawal। এতে বোঝা যায়, জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে কিছু গ্রাহক এই সুবিধা ব্যবহার করে থাকেন।
সবশেষে বলা যায়, ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা তোলা সম্ভব হলেও এটিকে সাধারণ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের মতো খরচমুক্ত সুবিধা মনে করা উচিত নয়। ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা, ফি ও লেনদেনের তারিখ থেকে সুদ প্রযোজ্য হতে পারে। তাই নগদ টাকা তোলার আগে নিজের কার্ডের সর্বশেষ শর্ত ও চার্জ যাচাই করা এবং সম্ভব হলে দ্রুত বকেয়া পরিশোধ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংকভেদে ক্যাশ অ্যাডভান্সের ফি, ATM সীমা ও অন্যান্য শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
