বিকাশ-নগদের বাজারে নতুন প্রতিযোগী, ‘মুক্ত পে’ নিয়ে ডিজিটাল পেমেন্টে বাংলালিংক

reporter
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:১০ অপরাহ্ণ
বিকাশ-নগদের বাজারে নতুন প্রতিযোগী, ‘মুক্ত পে’ নিয়ে ডিজিটাল পেমেন্টে বাংলালিংক

ডিজিটাল পেমেন্ট সেবায় নতুনভাবে যুক্ত হচ্ছে বাংলালিংকের ‘মুক্ত পে’

দেশের ডিজিটাল লেনদেনের বাজারে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা পিএসপি লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ‘মুক্ত পে’ নামে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা চালুর অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবার পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবার ক্ষেত্রেও কার্যক্রম বিস্তৃত করছে বাংলালিংক। নতুন এই সেবাকে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হলেও এটি বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো সরাসরি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসেবে না দেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত পিএসপি-ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা হিসেবে বিবেচনা করা বেশি সঠিক।

বাংলালিংকের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন ‘মুক্ত পে’ প্ল্যাটফর্মে অনুমোদিত বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে অর্থ স্থানান্তর, মার্চেন্ট পেমেন্ট, ই-কমার্সে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধ, বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং সরকারি বিল পরিশোধের সুবিধা থাকবে। পাশাপাশি বেতন, ভাতা ও অন্যান্য অর্থ বিতরণের মতো ডিজিটাল লেনদেনও এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন সেবা কীভাবে এবং কী পরিমাণে ব্যবহার করা যাবে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযোজ্য নিয়মকানুন ও বাংলালিংকের চূড়ান্ত সেবা কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে।

বাংলালিংক জানিয়েছে, ‘মুক্ত পে’ চালুর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সহজলভ্য করা। বিশেষ করে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ছোট উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

দেশজুড়ে বাংলালিংকের বড় গ্রাহকভিত্তি ও মোবাইল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পরিধি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। বাংলালিংকের দাবি, টেলিযোগাযোগ খাতে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মূল প্রতিষ্ঠান ভিওনের আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ‘মুক্ত পে’কে গ্রাহকদের জন্য সহজ ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে শুধু মোবাইল সংযোগের গ্রাহক হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে ডিজিটাল আর্থিক সেবার ব্যবহারকারী হিসেবেও বাংলালিংকের বিশাল গ্রাহকভিত্তিকে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

নতুন এই উদ্যোগের ফলে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ টাকা পাঠানো, মার্চেন্ট পেমেন্ট, বিল পরিশোধ ও অনলাইন কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ব্যবহার করছেন। এই বাজারে বাংলালিংকের মতো বড় একটি টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের প্রবেশের ফলে গ্রাহকদের সামনে নতুন একটি ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সেবাদাতার মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর সুবিধা ও সেবার বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে ‘মুক্ত পে’কে বিকাশ, নগদ বা রকেটের সঙ্গে একেবারে একই ধরনের সেবা হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ বাংলালিংক যে অনুমোদন পেয়েছে, সেটি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা পিএসপি হিসেবে। পিএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা দিতে পারে। ফলে ‘মুক্ত পে’-এর মাধ্যমে কী ধরনের লেনদেন করা যাবে, লেনদেনের সীমা কত হবে, কী কী চার্জ প্রযোজ্য হবে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি কতটা বাড়ানো হবে—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম ও প্রতিষ্ঠানের ঘোষণার ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।

বাংলালিংকের এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিকানা প্রতিষ্ঠান ভিওন বাংলাদেশে ডিজিটাল আর্থিক সেবার পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতেও প্রবেশ করতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ভিওন ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ টেলিযোগাযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল পেমেন্ট ও ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যাংকিং—এই তিনটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিজেদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে ভিওনের।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, দেশে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ার সময়ে নতুন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের প্রবেশ বাজারকে আরও গতিশীল করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অনলাইন উদ্যোক্তা ও ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা মানুষের জন্য সহজ ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়তে পারে। তবে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের সফলতা নির্ভর করবে এর নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, ব্যবহারকারীবান্ধব ব্যবস্থা, মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক এবং লেনদেনের খরচের ওপর।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্টের বাজারে বাংলালিংকের ‘মুক্ত পে’ নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পিএসপি লাইসেন্স পাওয়ার পর এখন গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালুর প্রস্তুতি সামনে এসেছে। টাকা স্থানান্তর, মার্চেন্ট ও ই-কমার্স পেমেন্ট, ইউটিলিটি ও সরকারি বিল পরিশোধ এবং বিভিন্ন অর্থ বিতরণের সুবিধা নিয়ে ‘মুক্ত পে’ বাজারে এলে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সামনে আরও একটি বিকল্প তৈরি হবে। তবে সেবাটি বিকাশ, নগদ বা রকেটের সরাসরি বিকল্প হবে কি না, তা নির্ভর করবে বাংলালিংকের সেবার বিস্তার, চার্জ, ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page