এসির তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২৭ করলে কেন ঠান্ডা কমে?

প্রকাশিত: 09-06-2026 9:02 AM
এসির তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২৭ করলে কেন ঠান্ডা কমে?

গরমের দিনে ঘরে ঢুকেই অনেকেই এসির রিমোট হাতে নিয়ে তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে দেন। তাদের ধারণা, এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, রিমোটে সংখ্যাটি যত বাড়ানো হবে, এসি তত বেশি ঠান্ডা করবে। বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো।

এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো তাপমাত্রার সংখ্যা এবং কুলিংয়ের সম্পর্ক নিয়ে বিভ্রান্তি। অনেকেই মনে করেন ২৭ বা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করলে এসি বেশি শক্তিতে কাজ করবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সংখ্যাটি যত কম সেট করা হয়, এসিকে তত বেশি ঠান্ডা করতে হয়।

আরও পড়ুন-এসির ভিতরে লুকিয়ে থাকতে পারে ক্ষতিকর জীবাণু, জানেন কী কী রোগের ঝুঁকি বাড়ে?

এয়ার কন্ডিশনার মূলত একটি তাপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র। এটি ঠান্ডা বাতাস তৈরি করে না, বরং ঘরের ভেতরের তাপ শোষণ করে বাইরে বের করে দেয়। যখন আপনি রিমোটে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা নির্বাচন করেন, তখন এসির সেন্সর ঘরের বর্তমান তাপমাত্রা পরিমাপ করে এবং সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

ধরা যাক, ঘরের তাপমাত্রা বর্তমানে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদি আপনি এসি ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করেন, তাহলে যন্ত্রটিকে ১৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। এজন্য কম্প্রেসার দীর্ঘ সময় চালু থাকবে এবং সর্বোচ্চ কুলিং ক্ষমতা ব্যবহার করবে।

অন্যদিকে যদি একই ঘরে এসি ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করা হয়, তাহলে মাত্র ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমালেই লক্ষ্য পূরণ হবে। ফলে কম্প্রেসার দ্রুত বিশ্রামে যেতে পারবে বা কম শক্তিতে চলবে। এ কারণে ঘর তুলনামূলক কম ঠান্ডা অনুভূত হয়।

এখানেই অনেক ব্যবহারকারীর ভুল ধারণা তৈরি হয়। তারা মনে করেন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করলে এসি দ্রুত ঠান্ডা করে এবং ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করলে ধীরে ঠান্ডা করে। বাস্তবে অধিকাংশ আধুনিক এসি চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে প্রায় একই কুলিং ক্ষমতায় কাজ করে। অর্থাৎ ১৬ ডিগ্রি বা ২৪ ডিগ্রি—যাই সেট করা হোক না কেন, শুরুতে কম্প্রেসার সর্বোচ্চ ক্ষমতার কাছাকাছি কাজ করে।

পার্থক্য তৈরি হয় পরে। ২৪ বা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেলে এসি কম কাজ করতে শুরু করে বা কিছু সময়ের জন্য কম্প্রেসার বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো তুলনামূলক কঠিন হওয়ায় কম্প্রেসারকে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে হয়।

এ কারণেই কম তাপমাত্রায় এসি চালালে বিদ্যুৎ খরচও বেশি হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা এক ডিগ্রি কমালে বিদ্যুৎ খরচ ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে ১৬ বা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দীর্ঘ সময় এসি চালানো বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সেটিং হিসেবে বিবেচনা করেন। এই তাপমাত্রায় ঘর আরামদায়ক থাকে, আবার বিদ্যুৎ খরচও তুলনামূলক কম হয়। অনেক দেশের জ্বালানি সংস্থা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে শক্তি সাশ্রয়ী তাপমাত্রা হিসেবে সুপারিশ করে।

ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। ইনভার্টার প্রযুক্তি কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। কিন্তু ব্যবহারকারী যদি সব সময় ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করেন, তাহলে ইনভার্টার প্রযুক্তির পুরো সুবিধা পাওয়া যায় না। কারণ কম্প্রেসারকে দীর্ঘ সময় উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করতে হয়।

তাপমাত্রার পাশাপাশি ঘরের আকার, জানালার সংখ্যা, বাইরের আবহাওয়া, ঘরে মানুষের উপস্থিতি এবং সূর্যের আলোও কুলিংয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই শুধু রিমোটে সংখ্যা কমিয়ে দিলেই সব সময় দ্রুত আরাম পাওয়া যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ঘরে প্রবেশ করার পর প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসি চালানো এবং পরে প্রয়োজন অনুযায়ী ২৫ বা ২৬ ডিগ্রিতে রাখা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এতে আরাম ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মধ্যে ভালো ভারসাম্য বজায় থাকে।

তাই পরেরবার এসির রিমোট হাতে নেওয়ার আগে একটি বিষয় মনে রাখুন—সংখ্যা যত কম, ঠান্ডা তত বেশি। আর সংখ্যা যত বেশি, এসির লক্ষ্য তাপমাত্রাও তত বেশি। ফলে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গেলে ঘর আরও ঠান্ডা নয়, বরং কম ঠান্ডা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচও কমে আসবে।

আরও পড়ুন-এসি চালু করলেই কেন ধীর হয়ে যায় ইন্টারনেট, জানুন আসল কারণ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Inky khan

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি "টেক বাংলা নিউজ" এর নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। সঠিক ও সহজ ভাষায় পাঠকের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now