গরমের দিনে এসি এখন অনেক পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তবে অনেকেই অভিযোগ করেন, নতুন এসি কেনার কিছুদিন পরই বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার একই থাকলেও মাস শেষে বিল দেখে অবাক হতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, আপনার এসি কি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করছে?
আরও পড়ুনঃ- বিদ্যুৎ বিল ছাড়াই চলবে এসি, জেনে নিন সাশ্রয়ী উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি সরাসরি বিদ্যুৎ ‘চুরি’ না করলেও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যা, ভুল ব্যবহার বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। ফলে ব্যবহারকারী বুঝতে না পারলেও প্রতি মাসে অতিরিক্ত বিল গুনতে হয়।
এসি বেশি বিদ্যুৎ খরচ করছে কি না তা বোঝার অন্যতম সহজ উপায় হলো আগের কয়েক মাসের বিদ্যুৎ বিলের সঙ্গে বর্তমান বিল তুলনা করা। যদি এসি ব্যবহারের সময় ও ধরন প্রায় একই থাকে, কিন্তু বিল হঠাৎ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
এছাড়া এসির ফিল্টার দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে কুলিং কমে যায় এবং কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে কম্প্রেসারকে বেশি সময় কাজ করতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যায়। তাই মাসে অন্তত একবার ফিল্টার পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেক সময় দেখা যায়, এসি ২৪ বা ২৫ ডিগ্রির পরিবর্তে ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালানো হয়। এতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য এসিকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয়। ফলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়।
ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রেও যদি ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা না হয়, বারবার কম্প্রেসার চালু-বন্ধ হয় বা অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যায়, তাহলে সেটি কারিগরি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো উচিত।
আরেকটি কার্যকর উপায় হলো স্মার্ট মিটার বা বিদ্যুৎ মনিটরিং ডিভাইস ব্যবহার করা। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে এসি কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, তা জানা যায়। এতে সহজেই বোঝা সম্ভব হয় এসির বিদ্যুৎ খরচ স্বাভাবিক আছে কি না।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অনেক পুরোনো এসি নতুন মডেলের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। বিশেষ করে ৮ থেকে ১০ বছরের পুরোনো নন-ইনভার্টার এসিগুলোতে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেশি হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের পুরোনো এসি ব্যবহার করলে সেটির দক্ষতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ঘরের দরজা-জানালা খোলা রেখে এসি চালানো, সরাসরি রোদে আউটডোর ইউনিট স্থাপন করা কিংবা নিয়মিত সার্ভিসিং না করাও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচের কারণ হতে পারে। এসব ছোটখাটো বিষয় অনেক সময় মাস শেষে বড় অঙ্কের বিলের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাই বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বা মিটারের দিকে না তাকিয়ে এসির কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা উচিত। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সঠিক তাপমাত্রা নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় সার্ভিসিং নিশ্চিত করলে এসির বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ- এসি রিমোটের এই একটি বোতাম চালু রাখলেই কমতে পারে বিদ্যুৎ বিল










