অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিকল্পনা, ২০ জেলায় নেটওয়ার্ক গড়বে সরকার
২০ জেলায় মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরেই অন্তত ২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
একই সঙ্গে দেশের অক্সিজেন ব্যবস্থার সার্বিক অগ্রগতি মূল্যায়নে ল্যানসেট কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ‘অক্সিজেন অ্যাকসেস স্কোরকার্ড’ অর্জনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রোববার (৪ অক্টোবর) ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট’-এর সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (সিএইচআইপিএস) ও বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এ সামিটের আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা এবং ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেজোলিউশনের পর মেডিকেল অক্সিজেনকে শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসা চাহিদা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন স্বাস্থ্য নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশে চিকিৎসাক্ষেত্রে অক্সিজেন ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও কার্যকর মানে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক ‘অক্সিজেন অ্যাকসেস স্কোরকার্ড’-এ বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করার লক্ষ্য রয়েছে।
অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় অতীতে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল উল্লেখ করে এম এ মুহিত বলেন, বিভিন্ন সময়ে কোথাও একই ধরনের উদ্যোগের পুনরাবৃত্তি হয়েছে, আবার কিছু জায়গায় সরঞ্জাম থাকলেও তা কার্যকরভাবে চালু ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ ধরনের অচলাবস্থা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে। এর মাধ্যমে চলতি অর্থবছরেই দ্রুততম সময়ে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর একটি ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সদের অক্সিজেন থেরাপি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তুলতে চিকিৎসা শিক্ষায় ব্যবহারিক ও পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং নার্সিং কাউন্সিলকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী এবং সেরিব্রাল পলসিসহ প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে এম এ মুহিত বলেন, দেশে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সংজ্ঞার ঘাটতি রয়েছে। যে কোনো গাড়িতে বাতি লাগিয়ে সেটিকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
দেশে আধুনিক ও মানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত কাঠামো ও স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন নিয়ে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্বের মাধ্যমে সাশ্রয়ী, সমতাভিত্তিক ও টেকসই মেডিকেল অক্সিজেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
