মনোহরদীর রামপুরে বানরের দাপট, ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন অভয়াশ্রম

প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
মনোহরদীর রামপুরে বানরের দাপট, ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন অভয়াশ্রম

কয়েক যুগ ধরে রামপুর গ্রামের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বানর।

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে কয়েক যুগ ধরে বসবাস করছে অসংখ্য বানর। দীর্ঘদিন ধরে এসব বানর গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বানর দেখতে দর্শনার্থীরা রামপুর গ্রামে আসেন। তবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই বানরগুলোই খাবারের সংকট দেখা দিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অনেক সময় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয়রা জানান, রামপুর গ্রামের বানরগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানুষের বসতির আশপাশে বসবাস করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব বানর গ্রামের পরিচিতির অংশ হয়ে উঠেছে। বানর দেখতে আসা দর্শনার্থীদের কারণে এলাকায় আলাদা একটি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে। অনেকের কাছে রামপুরের বানর এখন স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতীক।

তবে বানরগুলোর সংখ্যা ও বসবাসের ধরন পরিবর্তনের কারণে স্থানীয়দের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে খাবারের সংকট দেখা দিলে বানরগুলো দল বেঁধে লোকালয়ে চলে আসে। অনেক সময় বসতবাড়িতে ঢুকে খাবার নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট করে বলে জানান বাসিন্দারা।

এ ছাড়া কৃষকদের জন্যও এসব বানর ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বানরগুলো পানের বরজ, কলাবাগানসহ বিভিন্ন কৃষিজমিতে ঢুকে ফসল নষ্ট করে। এতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বানরগুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো খাবারের ব্যবস্থা বা নিরাপদ আবাসস্থল না থাকায় তারা প্রয়োজনের তাগিদে মানুষের বাড়িঘর ও কৃষিজমিতে চলে আসে। এতে একদিকে যেমন বানর ও মানুষের মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাদের মতে, বানর সংরক্ষণ ও মানুষের ভোগান্তি কমাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রামপুরে সরকারি উদ্যোগে একটি অভয়াশ্রম বা নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি করা হলে বানরগুলো যেমন নিরাপদ পরিবেশে থাকতে পারবে, তেমনি মানুষের সঙ্গে সংঘাতও কমবে।

স্থানীয়দের দাবি, বানরগুলোর জন্য নির্দিষ্ট স্থানে খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে লোকালয়ে তাদের প্রবেশ অনেকটাই কমে আসতে পারে। পাশাপাশি বানরের আবাসস্থল সংরক্ষণ, দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে রামপুরকে একটি সম্ভাবনাময় প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

স্থানীয়রা মনে করেন, রামপুরের বানর শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি গ্রামের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের অংশ। তাই বানর সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বানর ও মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করা গেলে রামপুরের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। এতে একদিকে যেমন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সম্ভব হবে, অন্যদিকে দর্শনার্থীদের আগমন বাড়ার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page