ই-পাসপোর্ট নিয়ে প্রতারণা ঠেকাতে ৪ বিষয়ে সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ
ই-পাসপোর্ট প্রতারণা প্রতিরোধে সরকারি বিশেষ সতর্কতা
ই-পাসপোর্টের আবেদন ও সেবা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার না হওয়ার জন্য নাগরিকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারি ই-পাসপোর্ট অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত এক বিশেষ সতর্কবার্তায় আবেদনকারীদের তথ্য সংশোধন বা আবেদনের কোনো সমস্যা সমাধানের নামে কাউকে টাকা না দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ই-পাসপোর্টের ফি শুধু অনুমোদিত পদ্ধতিতে পরিশোধ এবং অপরিচিত নম্বর বা নাম থেকে আসা এসএমএসে থাকা কোনো লিংকে ক্লিক না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ই-পাসপোর্টের সরকারি ওয়েবসাইটের ‘Special Attention against Fraudulent Activities’ শিরোনামের নোটিশটি সর্বশেষ ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ করা হয়েছে। সেখানে প্রতারণা প্রতিরোধে মোট চারটি বিষয়ে আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের এই সতর্কবার্তার মূল লক্ষ্য ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়াকে ঘিরে অর্থ আদায়, ভুয়া যোগাযোগ ও প্রতারণামূলক লিংকের মাধ্যমে নাগরিকদের ক্ষতির ঝুঁকি কমানো।
সরকারি সতর্কবার্তায় প্রথমেই বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনে দেওয়া কোনো তথ্য সংশোধন কিংবা আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ আবেদন করার পর তথ্য সংশোধন বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটি সমাধানের কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে আবেদনকারীকে সতর্ক থাকতে হবে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনে দেওয়া তথ্য সংশোধনের জন্য কোনো টাকা প্রদান করতে হয় না।
এ ধরনের সতর্কতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা নিতে গিয়ে অনেক আবেদনকারী দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশায় মধ্যস্থতাকারী বা ব্যক্তির সহায়তা নিতে পারেন। এ সুযোগে কেউ যদি তথ্য সংশোধন, আবেদন দ্রুত সম্পন্ন করা কিংবা কোনো জটিলতা দূর করার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে, তাহলে সরকারি নির্দেশনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের নোটিশ অনুযায়ী, তথ্য সংশোধনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কাউকে অর্থ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয় সতর্কতায় ই-পাসপোর্টের ফি পরিশোধের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলেছে, পাসপোর্টের ফি দেওয়ার সময় শুধুমাত্র সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে উল্লেখ করা অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অননুমোদিত মাধ্যমে টাকা না দেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে।
এর অর্থ হলো, ই-পাসপোর্টের ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত নম্বর, অপরিচিত অ্যাকাউন্ট কিংবা অননুমোদিত চ্যানেলের ওপর নির্ভর না করে সরকারি পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। আবেদনকারীকে পেমেন্টের আগে নির্ধারিত ফি ও অনুমোদিত অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো লিংক নিয়ে। ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ই-পাসপোর্ট থেকে এসএমএসের মাধ্যমে কোনো লিংক পাঠানো হয় না। ফলে আবেদনকারী বা পাসপোর্টপ্রত্যাশীর মোবাইলে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো বার্তা এসে তাতে লিংকে ক্লিক করতে বলা হলে সেটি অনুসরণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে প্রতারণার বিভিন্ন কৌশলের মধ্যে ভুয়া ওয়েবসাইট বা লিংকের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনাও দেখা যায়। এ কারণে সরকারি সেবার নামে কোনো এসএমএসে লিংক আসলে সেটির উৎস যাচাই না করে ক্লিক করলে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান নির্দেশনায় তাই এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া লিংক অনুসরণ না করার বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চতুর্থ সতর্কতায় সরকারি ই-পাসপোর্টের এসএমএস চেনার বিষয়টি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত অফিসিয়াল এসএমএস শুধু EPASSPORTBD নামের প্রেরক থেকে পাঠানো হয়। অন্য কোনো নাম বা ফোন নম্বর থেকে ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত এসএমএস এলে সেটিকে উপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদনকারীরা ভুয়া এসএমএস ও প্রতারণামূলক যোগাযোগ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক হতে পারবেন। কোনো বার্তায় পাসপোর্টের সমস্যা সমাধান, তথ্য সংশোধন, দ্রুত ডেলিভারি বা অন্য কোনো সেবার কথা বলে অর্থ দাবি করা হলে সরাসরি সরকারি পোর্টালের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে কোনো অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাকা পাঠানো কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে বিষয়টি যাচাই করা উচিত।
ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি পোর্টাল ছাড়া অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা ব্যক্তির দেওয়া নির্দেশনাকে চূড়ান্ত হিসেবে না ধরা। ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সতর্কবার্তায় অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি এসএমএসে পাঠানো লিংক এড়িয়ে চলার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ফলে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য জানতে হলে সরাসরি সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টাল ব্যবহার করাই নিরাপদ পদ্ধতি।
বিশেষ করে আবেদনকারীর তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীকে টাকা দিয়ে কাজ করানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। কর্তৃপক্ষের বর্তমান সতর্কবার্তায় তথ্য সংশোধনের জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। তাই এ ধরনের সেবার নামে কেউ টাকা দাবি করলে আবেদনকারীকে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত এই সতর্কবার্তা মূলত নাগরিকদের প্রতারণামূলক কার্যক্রম থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য দেওয়া হয়েছে। ই-পাসপোর্টের আবেদন, ফি প্রদান এবং এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ক্ষেত্রে চারটি নির্দেশনা মেনে চললে অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতারণামূলক যোগাযোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
তাই ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীদের জন্য মূল বিষয় হলো—তথ্য সংশোধনের নামে কাউকে টাকা না দেওয়া, ফি পরিশোধে শুধু অনুমোদিত পদ্ধতি ব্যবহার করা, এসএমএসে আসা কোনো লিংকে ক্লিক না করা এবং অফিসিয়াল এসএমএসের প্রেরক হিসেবে শুধু EPASSPORTBD নামটি যাচাই করা। পাসপোর্ট সংক্রান্ত কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে সরাসরি বাংলাদেশ ই-পাসপোর্টের সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
