সবজির বাজারে স্বস্তি নেই, অধিকাংশই ৮০ টাকার ওপরে

প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সবজির বাজারে স্বস্তি নেই, অধিকাংশই ৮০ টাকার ওপরে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শিমের দাম ২০০ টাকা ও পেঁপে ৩০ টাকা কেজি।

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে বড় ধরনের স্বস্তি নেই। বাজারে এখন সবচেয়ে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি শিম, কেজি ২০০ টাকা। বিপরীতে সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, কেজি ৩০ টাকা। অন্যান্য বেশির ভাগ সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিতে অন্তত ৭০ টাকা।

শুক্রবার রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজির পাশাপাশি মাছ, মাংস ও ডিমের দামেও বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া থাকা কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ সাধারণ বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। তবে দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি, কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

শীতের আগাম সবজি শিমের দাম সবচেয়ে বেশি। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা দরে। অন্যদিকে পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ টাকা কেজিতে। সবজির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ২০০ টাকা পর্যন্ত ওঠা কাঁচা মরিচ এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বাড়ায় মরিচের দাম কমেছে।

বাজারে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম ৮০ টাকা কেজি। আকারভেদে একটি লাউ ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। বাজারে ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘আজ বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা ও এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৪০ টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি।’

মুরগির বাজারে অবশ্য চলতি সপ্তাহে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে। ডিমের দামও আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকায়।

ডিম বিক্রেতা মাসুম বলেন, ফার্মের মুরগির ডিম এখন ডজন ১৫৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

মাছের বাজারেও দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই। বাজারভেদে এবং মাছের আকার ও জীবিত বা মৃত অবস্থার ওপর দাম কিছুটা কমবেশি হচ্ছে। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি।

আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের রুই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের কেজিতে হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

মাছ বিক্রেতা সুলতান আহমদ বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। তিনি জানান, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য, মাছের দাম মূলত সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সকালে যে দামে মাছ বিক্রি হয়, বিকেলে সেই দাম পরিবর্তন হতে পারে। বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি হলে দাম কমে, আবার ক্রেতার চাপ বাড়লে দামও বেড়ে যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, একই মাছ বা সবজির দামে বাজারভেদে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে মাছের ক্ষেত্রে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি হতে পারে। সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে সবজির দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। তবে কাঁচা মরিচের দাম কমায় এবং পেঁপে তুলনামূলক কম দামে পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page