জমি কিনে বিপদে পড়তে চান না? রেজিস্ট্রির আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ৭ বিষয়

প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
জমি কিনে বিপদে পড়তে চান না? রেজিস্ট্রির আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ৭ বিষয়

জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সঠিক আইনি প্রক্রিয়া | SIB NEWS

জমি কেনার ক্ষেত্রে সামান্য অসতর্কতাই ভবিষ্যতে বড় আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। অনেকেই জমি কেনার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই না করেই রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। পরে মালিকানা নিয়ে বিরোধ, মামলা কিংবা প্রতারণার শিকার হতে হয়। তাই জমির চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত করতে ক্রয়-বিক্রয়ের আগে এবং পরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় জানা জরুরি।

আইনজীবীদের মতে, জমি কেনার সময় শুধু দলিল করলেই মালিকানা নিশ্চিত হয় না। জমির কাগজপত্র যাচাই, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, দখল গ্রহণ এবং নামজারি—সবগুলো ধাপ সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. পি. এম. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ প্রামাণিক) তার ‘জমি-জমা নিয়ে আপনার যত আইনি সমস্যা ও তার আইনি সমাধান’ বইয়ে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

জমি কেনার আগে প্রথমেই জমির মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করতে হবে। জমির দাগ, খতিয়ান, মৌজা, সীমানা এবং মালিকানার তথ্য সঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ এসব তথ্যের ভুল ভবিষ্যতে বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর দলিলে কোনো ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধনের আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। দলিলে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, সীমানা বা নামের ভুল থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রম সংশোধন দলিলের মাধ্যমেও ভুল সংশোধন করা সম্ভব।

জমি কেনার পর ক্রেতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো দ্রুত দখল গ্রহণ ও নামজারি সম্পন্ন করা। জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণের পর বাস্তব দখলে যেতে হবে। এরপর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মূল দলিল বা সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারির আবেদন করতে হবে।

নামজারি সম্পন্ন হওয়ার পর খতিয়ান, ডিসিআর (DCR) এবং ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এসব নথি ভবিষ্যতে মালিকানা প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আইন অনুযায়ী জমি হস্তান্তরের সময় ভ্যাট ও উৎস কর সাধারণত বিক্রেতার আয়ের ওপর ধার্য কর হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অন্যান্য কর পরিশোধের দায়িত্ব মূলত ক্রেতার ওপর থাকে।

এছাড়া জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে। কোনো ব্যক্তি শারীরিক অসুস্থতার কারণে রেজিস্ট্রি অফিসে যেতে না পারলে রেজিস্ট্রেশন আইনের নির্দিষ্ট ধারায় কমিশনের মাধ্যমে বাসায় গিয়ে দলিল সম্পাদনের সুযোগ রয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, জমি কেনার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে প্রতিটি ধাপ যাচাই করে এগোনো উচিত। সঠিক নিয়মে দলিল যাচাই, রেজিস্ট্রি, দখল গ্রহণ ও নামজারি সম্পন্ন করলে ভবিষ্যতের অনেক আইনি ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👍 আমাদের অফিসিয়াল Facebook Page